ত্রিমুখী চাপে চাল আমদানি স্থগিত ইন্দোনেশিয়ার

লোকসমাজ ডেস্ক॥কৃষক, বিশেষজ্ঞ মহল ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার চাপে চাল আমদানি স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আরো ১০ লাখ টন চাল আমদানির কথা ছিল দেশটির। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ত্রিমুখী চাপে শেষ পর্যন্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে ইন্দোনেশিয়া। খবর জাকার্তা পোস্ট ও এশিয়ান নিউজ নেটওয়ার্ক।
চলতি বছর দেশটির ফসল সংগ্রহের সময় এপ্রিল থেকে মে মাস। ফসল উত্তোলনের সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন করে চাল আমদানি স্থানীয় বাজারে ব্যাপকপ্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন কৃষকরা। এ কারণেই সম্প্রতি সরকারের চাল আমদানির সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন তারা।
চাল আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বলেন, ফসল তোলার মৌসুমে চালের দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় আগামী জুন পর্যন্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে সরকার। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, আমদানি করা চাল এখনো দেশে আসেনি। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, বুলগের (সরাসরি কৃষকদের থেকে শস্য/পণ্য ক্রয় করার রাষ্ট্রীয় সংস্থা) মাধ্যমে কৃষকদের থেকে চাল ক্রয় কেনা হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই বুলগের জন্য অর্থমন্ত্রীকে বাজেটের বরাদ্দ বাড়াতে আমি নির্দেশনা দিচ্ছি।
জোকো উইডোডো বলেন, চাল আমদানির লক্ষে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার সংগ্রামে বর্তমানে ব্যস্ত দেশ দুটো
এদিকে স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়ার (তাদের ভাষায় বদন পুসাত স্ট্যাটিস্টিক- বিপিএস) তথ্যমতে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে চলতি মৌসুমে দেশটির চাল উৎপাদন ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশটির ফসল উৎপাদনের জমির পরিমাণ বাড়ায় এমনটা পূর্বাভাস দেয়া হয়। সে হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টনে।
সরকারের চাল আমদানির পরিকল্পনা এমন একটি মুহূর্তে করা হয়েছে, যখন দেশটির মোট চাল উৎপাদন আগের তুলনায় বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। এ সময়ে নতুন করে চাল আমদানি একদিকে যেমন অপ্রয়োজন তেমনি বাড়তি চাল স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্যমূল পাওয়া থেকে বঞ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাল সরবরাহ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন বলছে, গত বছরের উদ্বৃত্ত এবং চলতি বছরের দেশজ উৎপাদনের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কোনো ধরনের চাল আমদানি ছাড়াই নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম দেশটি। ইন্দোনেশিয়ার চালের চাহিদা ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন। অন্যদিকে প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদন দাঁড়াবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টনে। সে হিসেবে দেশের চাহিদা পূরণ করে আরো ১৯ লাখ ৮০ হাজার টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত বছরের মে মাসে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া তাদের দেশজ উৎপাদনের ওপর খুবই নির্ভরশীল। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সংস্থাটি বলছে, মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ ঘাটতি পূরণ করেত দেশটিকে অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হয়।
স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেয়িশয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটির চাল আমদানির পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়ানো হয়। ওই বছর ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫০৮ টন চাল আমদানি করে দেশটি।

ভাগ