আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমাতে চায় ভারত

লোকসমাজ ডেস্ক॥অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে অঞ্চলনির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে নিজেদের জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি অপরিশোধিত জ্বলানি তেল আমদানিতে পর্যায়ক্রমে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমাতে জোর দিয়েছে ভারত।
এপ্রিলের মধ্যে জ্বালানি তেল উৎপাদন কমাতে ওপেক প্লাসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলোর প্রতি এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্তত দুটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জ্বালানি তেলের বাজারে মূল্য ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্প্রতি উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক প্লাস জোটটি। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে দেশটির জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিমাণ তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ মোট আমদানির ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। কারণ এ অঞ্চলের তেল পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে তুলনামূলক সস্তা।
এদিকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে শীর্ষ দেশ সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের অধিকাংশ উৎপাদক দেশ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক সিদ্ধান্তে এসেছে যে তেল উৎপাদন কমিয়ে আনার মাত্রাকে আরো বাড়াবে তারা। ফলে ভারতের আমদানিতে একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে দেশটি। অর্থাৎ ওপেক প্লাসের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন সীমিত হলে তেলের দাম বেড়ে যাবে। ফলে বাড়বে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর ভারতের আমদানি ব্যয়ও। এজন্য তেল উৎপাদন না কমাতে ওপেক প্লাসের প্রতি আরজি জানিয়েছে ভারত।
সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কিছুটা কঠিন সময় পার করছে ভারত। এজন্য জ্বালানি তেল উৎপাদক দেশগুলোকে উৎপাদন সীমিত না করতে অনুরোধ তাদের। করোনা পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তেল উৎপাদক দেশগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানায় ভারত। তবে ভারতের আরজির জবাবে সৌদির জ্বালনিবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দেশেরই একটি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম দামের সময় তেল মজুদ করে দেশগুলো। ভারত চাইলে গত বছর কম দামে কেনা জ্বালানি তেল থেকে বর্তমান সমস্যার সমাধান করতে পারে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের সরকারি সংস্থার এক সূত্র বলছে, আমরা আমাদের জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলোকে আমদানিতে বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে নির্দেশনা জোরদার করেছি। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণকারীদের নির্বিচার সিদ্ধান্তের কাছে আমরা জিম্মি থাকতে চাই না। যখন বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল আমরা তখন তাদের পাশে ছিলোম।
সূত্র বলছে, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে যখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার নিম্নগামী, যখন এর চাহিদা কমে গিয়েছিল তখনো আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওপেক থেকে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অনেক কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ওপেক থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি কমে যাওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।
এদিকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওপেকের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার নির্ধারণ করা হয়। যদিও এর আগে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য স্থির হয় ৬৯ ডলার ৮ সেন্ট। অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে সৌদির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এপ্রিলে ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যও বাড়ানো হয়।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথম সূত্রের অভিযোগ, কভিড মহামারীতে বিশ্বকে একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা বলা হলেও দেশগুলো এখন কেবল নিজেদের কথাই ভাবছে।

ভাগ