কৃষিপণ্য রফতানিতে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি চায় বাপা

লোকসমাজ ডেস্ক॥আগামী পাঁচ বছরের জন্য কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ হারে অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তাইবুর রহমান এমন দাবি উপস্থাপন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।সভায় এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (কাস্টমস পলিসি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, ভ্যাট নীতির সদস্য মো. মাসুদ সাদিকসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাপার পক্ষে বলা হয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও এর পণ্য রফতানিতে উৎসাহ বাড়াতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ হারে আগামী পাঁচ বছর (২০২১-২৬) অব্যাহত রাখার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়। এ খাতে চুক্তিভিত্তিক কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদন করে রফতানির বিপরীতে ভর্তুকির আবেদন করা হয়।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, কৃষকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ পণ্য যেমন ধান, চাল, বাদাম, আলু, টমেটো, তরল দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, মরিচ, সরিষা ইত্যাদি উপকরণ ক্রয়ের বিপরীতে উেস কর কর্তন থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক।
সংগঠনটি বলছে, দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তাদের রফতানি বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারসহ অন্যান্য দেশ ঘনঘন তাদের খাদ্যপণ্য আমদানি আইন ও নীতিমালা পরিবর্তন করে। ফলে রফতানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বিশ্বের উন্নত দেশের ভিসা পেতে অসুবিধার কারণে রফতানি বাণিজ্য প্রসারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
বিদেশী বিশেষজ্ঞ এনে প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়ে তাইবুর রহমান বলেন, বিদেশী বিশেষজ্ঞ এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং মাঝেমধ্যে যোগ্য লোকজনকে বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত করা যেতে পারে। এছাড়া এ খাতের উন্নয়নের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো অপসারণে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য খাতের জন্য প্রসেসিং জোন গঠন করা, অন্যান্য ঋণের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা, বন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করা ও কৃষিপণ্যের অপচয় প্রতিরোধ করার জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করাসহ বেশকিছু দাবি উপস্থাপন করে সংগঠনটি।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে নতুন অর্থবছরে (২০২১-২২) হস্তচালিত বেকারিতে উৎপাদিত পাউরুটি, বানরুটি, ১৫০ টাকার প্রতি কেজি বিস্কুট এবং প্রতি কেজি কেক (পার্টিকেক ছাড়া) ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন। প্রাক-বাজেট আলোচনা অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এ প্রস্তাব দেন।
জালাল উদ্দিন বলেন, বিগত জাতীয় অর্থবছরে বাজেটগুলোতে হস্তচালিত বেকারি শিল্পে উৎপাদিত হাতে তৈরি পাউরুটি, বানরুটি ও এ ধরনের অন্যান্য রুটির ওপর সম্পূর্ণ ভ্যাট মুক্ত ছিল। ১৫০ টাকা মূল্যমানের প্রতি কেজি বিস্কুট এবং একই মূল্যমানের প্রতি কেজি কেক ভ্যাটের আওতামুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, হস্তচালিত বেকারি শিল্পের অদক্ষ, অশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও এ শিল্পের ক্রমবিকাশের কথা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর কথা বিবেচনা করে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সম্পূর্ণরূপে ভ্যাট মুক্ত রাখার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।সমিতির সভাপতি দাবি করেন, বিগত বছর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকায় চলতি বছরে দেশের সব কাঁচামালের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি পেলেও হস্তচালিত বেকারি শিল্পের কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানি ও স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা দেয়ার জন্য এনবিআর কাজ করছে। আপনাদের প্রস্তাব পেয়েছি, কেমন সুবিধা দেয়া যায়, তা আমরা পর্যালোচনা করব।
গত ১ মার্চ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু হয়। মোট ৩০টি খাত-উপখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের শুল্ক, ভ্যাট ও করসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করে এনবিআর। এ আলোচনা চলবে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। এনবিআরের আয়োজনে মাসব্যাপী এ আলোচনায় খাতভিত্তিক প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আগামী ১ এপ্রিল বিভাগীয় চেম্বারের মধ্যে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রাজশাহী বিভাগের সব জেলা চেম্বারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ আলোচনা কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এফবিসিসিআইয়ের পরামর্শক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ভাগ