যশোরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দু’একদিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে টিকার মজুদ

বিএম আসাদ ॥ যশোরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল আরো ১৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে, করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য দেয়া টিকার মজুদ দুএকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ২৫টি নমুনা পরীক্ষা করার পর ওই ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর সদরে ৮ জন ও বাঘারপাড়ার ২ জন রয়েছেন। এ নিয়ে একদিনে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৮শ ১৮ জন সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
এদিকে, করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য যশোরের যে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল তা আগামী দু’একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রথম চালানের পরবর্তী ডোজ না আসলে টিকা প্রদান বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয় ডোজ টিকা আসলে প্রথম ডোজপ্রাপ্তরা দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে পারবেন। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, গতকাল একদিনে ১ হাজার ৬শ ২৩ জনকে টিকার ডোজ দেয়া হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ২শ ২২ জনকে দেয়া হয়েছে টিকা। যার ভেতর ৪০ হাজার ৮শ’ ২ জন নারী এবং ৭২ হাজার ৪শ ২০ জন পুরুষ। ডা. রেহেনেওয়াজ আরো জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ টিকার ২টি ডোজ পেয়েছেন। এর ভেতর গতকাল রোববার পর্যন্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ২শ ২২ ডোজ টিকা দেয়ায় তাদের হাতে ৬ হাজার ৭শ ৭৮ ডোজ টিকা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু টিকা দেয়ার সময় ১ হাজার ৫শ থেকে প্রায় ২ হাজার ডোজ টিকা বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ৩ হাজারের ডোজের মতো টিকা স্টোরে মজুদ আছে। যা আগামী ৩১শে মার্চের ভেতর শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রথম ডোজের নতুন চালান এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা না আসলে টিকা প্রদান সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ডা. রেহেনেওয়াজ।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, প্রথম চালানের ডোজ শেষ হয়ে যাচ্ছে চলতি মার্চের মধ্যে। ডা. শেখ আবু শাহীন আরো বলেন, দ্বিতীয় ডোজ টিকা আসলে যারা প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।

ভাগ