ইবির উন্নয়ন কাজের দুই টেন্ডারে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

ইবি সংবাদদাতা॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চলমান ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় দুটি আবাসিক হল নির্মাণ কাজে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। শনিবার (২৭ মার্চ) বাদীপক্ষের ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুজন মিয়া স্বাক্ষরিত দুটি রিট পিটিশনে এ তথ্য জানা গেছে। এই স্থগিতাদেশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও টেন্ডার স্থগিত করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেন্ডার উন্মুক্ত ও মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি এইচ এম আলী হাসান। তিনি বলেন, ‘পাওয়ার ম্যাক উচ্চ আদালতে রিট করেছিল। তা মঞ্জুর হয়েছে। তাই এই রি-টেন্ডার দুটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দশতলা একটি ছাত্র হল ও একই বছরের ৫ মার্চ একটি ছাত্রী হল নির্মাণ করতে দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। যার মূল্যমান ১০৬ কোটি টাকা। এতে ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও এম/এস রহমান ট্রেডার্সসহ ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। একই বছর ১৩ ও ১৪ মে দরপত্র খোলে কর্তৃপক্ষ। ওই টেন্ডারে সর্বনিম্ন মূল্যে কাজ করতে এম/এস রহমান ট্রেডার্স ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মূল্যে কাজ করতে ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড দরপত্র জমা দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে জটিলতার কারণে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফের দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম। পরে একই দিনে শর্ত পূরণ সাপেক্ষেও কাজ না পাওয়ায় ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ মুরাদ বাদী হয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন। রিট পিটিশন সূত্রে জানা গেছে, রি-টেন্ডার আইডি-৩৫৫১৪৮ ও ৩৫৫১৪৯ এর বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ মুরাদ। শুনানির পর গত ২৫ মার্চ মেগা প্রকল্পের এই কাজে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড শর্ত পূরণ করার পরেও কাজ না পাওয়ার উপযুক্ত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বা দ্বৈত বেঞ্চে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার এই আদেশ জারি করেন। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী সুজন মিয়া বলেন, ‘বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের যৌথ বেঞ্চে রিটটি শুনানি হয়। এতে রি-টেন্ডার দুটির ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কেন ম্যাককে কার্যাদেশ দেয়া হবে না এ মর্মে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ‘টেন্ডার যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩১ মার্চে দুটি টেন্ডার ওপেন করার কথা থাকলেও ছাত্র হল-২ রি-টেন্ডার হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতে আপিল করবে। এজন্য ভিসি স্যার আইন প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আইনের আশ্রয় নেয়ার সবার অধিকার আছে। আমি আইনজীবীর মতামত জানতে চেয়েছি। এরপর যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ভাগ