সুয়েজ খাল আটকে দেয়া জাহাজ মুক্তের চেষ্টা অব্যাহত, ব্যাপক নৌজট

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ সুয়েজ খাল আটকে দেয়া বিশাল কার্গো জাহাজকে মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মিসরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এমভি এভার গিভেন নামের আটকে পড়া এই জাহাজ উদ্ধারে এর চারপাশে খনন কাজ চালানো হয়। এদিকে সুয়েজ খালে নৌ চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংযোগ পথের দুই প্রান্তে ব্যাপক নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে। ১২০ মাইল দীর্ঘ কৌশলগত এই খাল পারাপারের জন্য কোটি কোটি ডলার পণ্য বহনকারী ২৩০টির বেশি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সুয়েজ খালের যাতায়াত পথ বন্ধ করে দিয়ে আটকে পড়ে চার শ’ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজ। জাহাজের চারপাশ খনন করে উদ্ধারের জন্য কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার থেকে খনন কাজ শুরু করে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ। সুয়েজ খালে নৌযান চলাচলের পথ আটকে যাওয়ায় সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির ঘাটতির শঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক এই সংযোগ পথে মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১২ ভাগ পণ্য সরবরাহ করা হয়।
সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ওসামা রাবি শুক্রবার জানান, আটকে যাওয়া কার্গো জাহাজের চারপাশে খনন কাজ ৮৭ ভাগ সক্ষমতায় পৌঁছেছে। তিনি জানান, ড্রেজার মাশহুর বৃহস্পতিবার জাহাজটির এক শ’ মিটার দূর থেকে খনন কাজ শুরু করে। শুক্রবার জাহাজটির ১৫ মিটার দূরে চলে আসে ড্রেজারটি। আধা মিটার থেকে ১৫ মিটার গভীর থেকে ড্রেজারটি খনন করে আসছে। রাবি বলেন, এভার গিভেন জাহাজের চারপাশ থেকে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কিউবিক মিটার বালু তোলার পর দুইটি টাগবোট আটকে পড়া কার্গো জাহাজটিকে তোলার চেষ্টা করবে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের চিফ গাইড ক্যাপ্টেন ফরিদ রুশদি এই দুর্ঘটনার কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের চেয়ে উদ্ধার অভিযানে জাহাজটির নিরাপত্তাই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ ১৯৯৭ সালে সুয়েজ খালের একই স্থানে একটি তেল ট্যাঙ্কার আটকে পড়ায় তিনদিন এই সমুদ্র সংযোগ পথ বন্ধ ছিল।
সূত্র : আরব নিউজ

 

ভাগ