দুগ্ধপণ্যের দাম কমেছে ৩.৮%

লোকসমাজ ডেস্ক॥বৈশ্বিক নিলামে কমেছে দুগ্ধপণ্যের দাম। এর আগের টানা সাত নিলামে দাম না কমলেও দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে এবারের নিলামে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) অকশনের (নিলাম) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। গুঁড়ো দুধের মূল্যসূচক পতনের মধ্য দিয়ে পুরো সূচকে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক গুঁড়ো দুধের দাম ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ফলে নিলামে টনপ্রতি দুগ্ধপণ্যের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩ মার্কিন ডলার। খবর স্টাফ।
১৬ মার্চ জিডিটির ২৮০তম ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত নিলামে দুগ্ধপণ্যের সম্পূর্ণ মূল্যসূচক বাড়ে ১৫ শতাংশ। এমনকি সে নিলামে গুঁড়ো দুধের দাম বাড়ে ২১ শতাংশ। গত বছরের নভেম্বর থেকেই জিডিটির মূল্যসূচক বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে সূচক বাড়ে ৩৬ শতাংশ। তবে সর্বশেষ নিলামে এসে এর ছন্দপতন ঘটেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচকে এমন পরিবর্তন আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের মহামারী কাটিয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দুগ্ধপণ্য উৎপাদনও বেড়েছে। এছাড়া দুগ্ধপণ্যের মূল বাজারে মহামারীর প্রভাব সাম্প্রতিক সূচকের অবনমনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে মূল্যসূচকের পতন নিয়ে নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যামি ক্যাসেলটন বলেছেন, আগের জিডিটি ইভেন্টের মতো সাম্প্রতিক নিলামটি খুব বেশি রোমাঞ্চকর নয়। তবে এ নিলাম আমাদের সতর্কতার জন্য কিছু বিষয়কে সামনে নিয়ে এনেছে। সাম্প্রতিক সূচকের পতন আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে গুঁড়ো দুধের মূল্যসূচক সবসময় ঊর্ধ্বমুখী হবে এমনটা আশা করা যায় না। গুঁড়ো দুধের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের চাহিদার সঙ্গে ওঠানামা করে।
অর্থনৈতিক সেবা সংস্থা ওয়েস্টপ্যাকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ নাথান পেনি বলেছেন, সর্বশেষ নিলামের ফলাফল সমগ্র দুগ্ধপণ্যের বাজারকে চিত্রায়িত করতে পারেনি। এর বাজার এখনো বেশ শক্ত অবস্থানেই আছে। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক সময় সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে পণ্যের দাম সাময়িক কমে যায়। কিন্তু এটাই বাজারের আসল চিত্র নয়। মাঝে মধ্যে দুগ্ধপণ্যের মূল্যে কিছুটা বৈচিত্র্য দেখা দিলেও সামনের কয়েক মাসে এর দাম বর্তমান অবস্থার কাছাকাছিই থাকবে। বৈশ্বিক চলমান চাহিদার কারণে ২০২০-২১ সেশনেও দুগ্ধপণ্যের দাম বর্তমান অবস্থায় থাকবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি চলতি বছরের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এ নিলামে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ে। ১৯ জানুয়ারির নিলামে এ সূচকমান আরো ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ে। ২ ফেব্রুয়ারির নিলামে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক বেড়েছিল আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে সর্বশেষ নিলামে কমেছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক।

ভাগ