এলএনজি রফতানিতে রেকর্ডের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের পর থেকে গতি পেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বিশ্বের দেশগুলো। ফলে আমদানি-রফতানিতেও কিছুটা হাওয়া লেগেছে। বিশ্বের এ পরিস্থিতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিতে নতুন রেকর্ডের পথে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসেই সর্বোচ্চ এলএনজি রফতানিতে নতুন রেকর্ড করতে যাচ্ছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের মতে, করোনার সংকট কাটিয়ে ঠিক পথেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি। এশিয়া ও ইউরোপের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দাম হওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের আর্কষণ করতে পারছে তারা। ফলে বাড়ছে পণ্য খালাসের হার। বাড়ছে রফতানির পরিমাণও। এছাড়া আটলান্টিক বেসিনে শুল্কাহার হ্রাস মার্কিন এলএনজি রফতানির পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রিফিনিটিভ বলছে, চলতি মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ঘনফুন এলএনজি রফতানি করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগের চার মাসে এলএনজি রফতানির পরিমাণ কম থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে ফের বৃদ্ধির মুখ দেখে দেশটি। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানির গড় ছিল প্রতিদিন ৮৫০ কোটি ঘনফুট। তার আগের মাসগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত শীতের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রফতানিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির রেকর্ড পরিমাণ এলএনজি রফতানি হয় গত ডিসেম্বরে। তখন দেশটির প্রতিদিনের গড় এলএনজি রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০ কোটি ঘনফুট।তবে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি অনেকটাই বেড়েছে। এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে দেশটি। এর মাধ্যমে চলতি মাসে আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা মার্কিন সরকারের।
বৈশ্বিক পণ্যবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাপলারের বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বলছে, আটলান্টিক বেসিনে এলএনজির শুল্কহার হ্রাস পাওয়ার মাধ্যমে মার্কিন এলএনজি রফতানির পরিমাণ বহুমাত্রায় বেড়েছে। দুই মাস আগে সেখানে শুল্কহার দিনে ৩ লাখ ২২ হাজার থেকে কমে ২১ হাজার ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুল্কহার কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার পরিসংখ্যান বলছে, এশিয়া ও ইউরোপের এলএনজির মূল্য আমেরিকার চেয়েও অনেক বেশি। এছাড়া পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে যথার্থ পদক্ষেপ প্রতিযোগিতামূলক রফতানির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির কদর আরো বাড়িয়েছে।
রিফিনিটিভের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যেই এলএনজি ফিডগ্যাস রফতানির নতুন রেকর্ড করবে যুক্তরাষ্ট্র। সে লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দেশটি। এর আগে গত মধ্য ডিসেম্বরে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানির রেকর্ড করেছিল মার্কিন সরকার। চলতি মাসেই সে রেকর্ড ভেঙে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানির রেকর্ড করবে তারা।
তবে অন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২২ সালে নতুন ইউনিট থেকে এলএনজি উৎপাদনের আগে খুব বেশি পরিমাণে রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের। বর্তমানে দেশটির সক্ষমতা রয়েছে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ঘনফুন এলএনজি রফতানির। এলএনজি প্লান্টসগুলোতেও তাদের আমদানি বাড়ানোর মতো গ্যাস মজুদ নেই।
এদিকে মার্কিন সরকারের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর প্রতিদিন ৮৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি বাড়বে দেশটিতে। এছাড়া ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৯২০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি করবেন তারা। অন্যদিকে ২০২০ সালে এলএনজি রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ছিল প্রতিদিন ৬৫০ কোটি ঘনফুট।