স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামে মৃত এক প্রবাসীকে দাফন করতে গিয়ে হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন- মাগুরার শাবলাট গ্রামের মতিয়ার জোয়ার্দ্দারের পুত্র নবুরত ইসলাম সুমন (২০), সালাম জোয়ার্দারের পুত্র আবু হুরাইয়া (২২) ও তোবারেক জোয়ার্দ্দারের পুত্র আমিনুর জোয়ার্দ্দার (৩০)। আহতরা সকলেই মৃত নুরজাহান বেগমের কন্যা মরিয়াম বেগমের দেবর।
আহতরা জানিয়েছেন, নূরজাহান বেগম (৭০) সৌদিতে জীবন-যাপন করতেন। সেখানে মারা যাওয়ার পর গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংহপুরে নিজ বাড়িতে তার লাশ আনা হয়। এ সময় সৌদি থেকে লাশের দাফনের ভেতর টাকা পাঠায়। নূরজাহানের ৪ ছেলে-মেয়ের মধ্যে একমাত্র মরিয়ম ছাড়া সকলেই মানসিক প্রতিবন্ধী।
আহতরা জানিয়েছেন, গতকাল সকালে নূর জাহানকে তারা দাফন করতে যান। দাফন সম্পন্ন করে আত্মীয়-স্বজনরা মিলে মৃতার বাড়িতে খিঁচুড়ি রান্না করছিলেন। তখন পাশের লোকজন এক হয়ে আত্মীয়-স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। লোকজনকে বেদম মারপিট করে বাড়িছাড়া করে দেয়। এ হামলায় ৩ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের ভেতর নবুয়ত ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং অপর ২ জনকে মাগুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতা নূরজাহানের বিয়াইন নাসিমা খাতুন জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে লাশ আসলে সেখানকার মালিকপক্ষ লাশের কফিনের ভেতর টাকা পাঠায়। যার পরিমাণ ৭/৮ লাখ টাকা হবে। নূর জাহানের কফিনের ভেতরও অনেক টাকা পাঠিয়েছে সৌদি মালিক পক্ষ। নাসিমা খাতুন জানিয়েছেন, নূরজাহানের বাড়িতে ৩ ছেলে-মেয়ে থাকে। তারা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভালোমন্দ বোঝে না। তাই, গ্রামের লোকজনের ইচ্ছা মৃতার অবুঝ ছেলে-মেয়েদের ওই টাকা লুট করে নেয়। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন থাকার কারণে স্বার্থান্বেষী মহল টাকা নিতে পারছিল না। আত্মীয়রা খিচুড়ি রান্না করার সময় তোমরা রান্না করছো কেন’ এ অভিযোগ এনে ওই মহল এসে হামলা চালায় এবং সকলকে মারপিট করে বাড়িছাড়া করে। নাসিমা খাতুন জানিয়েছেন, লাশের কফিনের সাথে পাঠানো টাকা হামলাকারীরা লুট করে নেবে এবং মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের সামান্য টাকা দিয়ে বুঝিয়ে দেবে। এমন কৌশল নিয়ে তারা হামলা চালিয়েছে।





