বিএসইসিতে খুলনা পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদকে তলব

লোকসমাজ ডেস্ক॥ শেয়ারবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ার কোম্পানির দু’টি প্লান্টের বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২১) মে মাসে। আর এই দুই চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কোম্পানির এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তাই ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা জানতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে তলব করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি-সূত্রে জানা গেছে , মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩ টায় শেয়ারবাজর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে খুলনা পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব পরিচালককে ডাকা হয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা না থাকে, তাহলে কিভাবে কোম্পানিটির অবসায়ন করা হবে, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বিএসইসি। এর আগে গত ১৫ মার্চ বিএসইসির সঙ্গে ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি। ওই বৈঠকের আলোকেই এই ডাক পড়েছে বিএসইসি থেকে।
তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ‘অডিট আপত্তি’ হিসেবে কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিরীক্ষক এ. কাশেম অ্যন্ড কোং চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস। নিরীক্ষকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেয়ারবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের দু’টি পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ আগামী মে মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। আর চুক্তি নবায়নের বিষয়ে এখনো অগ্রগতি নেই। ফলে কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আরও জানায়, আর্থিক হিসাবের ৪৮নম্বর নোট অনুযায়ী, খুলনা পাওয়ারের দু’টি প্লান্ট থেকে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলোপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হবে। এর মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হবে ২৮ মে। অন‌্যটির ৩১ মে। মেয়াদ শেষের পথে থাকায় খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ চুক্তি নবায়নের জন্য পিডিবিকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু পিডিবি তার জবাব দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদকে ডাকা হয়েছে।’ এদিকে, খুলনা পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মো. আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় খুলনা পাওয়ার। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৭৯টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০ দশকি ৩০ শতাংশ। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৪৫ দশমিক ৩০ টাকা।

ভাগ