প্রাকৃতিক সুরক্ষার সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করে ভ্যাকসিন: গবেষণা

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার পর মানবদেহে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয় ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেয়ার পর দেহে একইরকম প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চালানো এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেয়া অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটালের ১৪৫৬ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে একজনও করোনায় আক্রান্ত হননি। তাদের দেহে করোনার বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে তা পূর্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের দেহে থাকা প্রতিরোধ ক্ষমতার সমান। অর্থাৎ, করোনা আক্রান্ত হলে অথবা ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে দেহে একই মাত্রার প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। এক ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছে এমন ১১ হাজার ২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে জানা গেছে তাদের সুরক্ষার মাত্রা ৬৭ শতাংশ। এই গবেষণা চালানো হয়েছে অক্সফোর্ডের ৪টি হাসপাতালে। এতে মোট অংশ নিয়েছেন ১৩ হাজার ১০৯ স্বাস্থ্যকর্মী।
এদেরমধ্যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৭৩৮ জনকে এবং ফাইজারের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ২৮৫ জনকে। MedRxiv প্রি-প্রিন্ট সার্ভারে এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। অক্সফোর্ডের হাসপাতালগুলো ও কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণা দলের সদস্য ক্যাটি জেফরি বলেন, এই গবেষণায় অংশ নেয়া হাজারো স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা নিশ্চিত হয়েছি ভ্যাকসিনের ডোজ পূর্ন হলে তা প্রাকৃতিক সুরক্ষার সমান সুরক্ষা দেয়। যারা দুই ডোজ ভ্যাকসিনই নিয়েছেন তাদের একজনের মধ্যেও আমরা করোনা সংক্রমণের লক্ষণ পাইনি। এই গবেষণার তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ন কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় নীতি তৈরি করা উচিৎ। এছাড়া, এটি আরো প্রমাণ করেছে স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও ঝুকিপূর্ন জনগোষ্ঠীর দ্রুত দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেয়া উচিৎ। ভাইরাস সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, অক্সফোর্ড এবং ফাইজার উভয় ভ্যাকসিন একই মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে দেহে। এবং এই প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট সুরক্ষার সমান। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ভ্যাকসিন গ্রহণের পর মানবদেহ ভাইরাস পরিবহণ কমিয়ে দেয়। ফলে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর তা দেশে লকডাউন সহজ করার পথ উন্মুক্ত করে দেবে।

ভাগ