লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস লকডাউন জারির এক বছর হবে ২৩ মার্চ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলে একটি ব্রিটিশ পরিবারের সদস্যরা সারা বছরজুড়েই বিভিন্ন উপসর্গে ভুগেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার যন্ত্রণা সইতে হয়েছে পুরো বছর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদনে তৈরি করেছে। মাউন্টফোর্ড-হিলস এলাকায় বাস করেন চার্লি (৩৭) ও তার স্বামী জেড (৪১)। তাদের রয়েছে পাঁচ সন্তান নিকো (১৫), বেক (১২), ইন্ডিয়ানা (১০), এমেট (৮) এবং মিমি (৫)। গত বছর মার্চে তারা সবাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সবাই, বিশেষ করে শিশুরা এখনও ভুগছে।
চার্লি বলেছেন, অনেক উপসর্গগু এখনও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে মাথা ব্যথা, চোখে জ্বালাতন, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, শরীরে র্যাশ, পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া, হাত ঘামা এবং পা ও মুখে আলসার। চার্লির ভাষায়, সুস্থ হওয়ার অনেক দিন কেটে গেছে। কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না যে এসব উপসর্গ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এমেট জানান, রাতে তার ঘুম হয়। তিনি বলেন, আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই আমি বার বার ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং বেশি অক্সিজেন নিতে লম্বা নিশ্বাস নেই। ইন্ডিয়ানা বলে, যখন আমি শরীরচর্চা করি তখন আমার শ্বাস কষ্ট হয়। নিশ্বাস নিতে আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়। আমি বেশিক্ষণ দৌড়াতে বা দীর্ঘক্ষণ খেলতে পারি না। সে আরও বলেন, একদিন আমি লিভিং রুমে বসে টিভি দেখছিলাম। এসময় আমার প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হয় যে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমি আসলেই অনেক অসুস্থ। এই মাথা ব্যথা ও পায়ে চুলকানির কারণে আমি কিছুই করতে পারি না। পেশায় কলোনিক হাইড্রোথেরাপিস্ট চার্লি এখনও কাজে ফিরতে পারেননি। তিনি বলেন, অনেক কঠিন সময় যাচ্ছে। আমি ও আমার স্বামী এখনও সুস্থ নই। চার্লি আরও বলেন, নিজেরা অসুস্থ থাকা এবং পাঁচ অসুস্থ শিশুর খেয়াল রাখতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আমরা তেমন সহযোগিতাও পাচ্ছি না। ফলে উদ্বিগ্ন, হতাশাজনক মন নিয়ে আমাদের কঠিন শারীরিক রোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। লং কোভিড কিডস নামের একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে পরিবারটি কিছু সহযোগিতা পাচ্ছে। এই সংস্থাটি এমন শিশুদের জন্য একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক স্থাপন করতে চায়। চার্লি বলেন, লং কোভিড সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো শিশুদের জন্য নয়। ফলে তাদের কোথাও নেওয়ার জায়গা নেই। দীর্ঘ মেয়াদি স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা তিনি সত্যিকার অর্থে উদ্বিগ্ন বলে জানান চার্লি।





