যশোরে বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটা!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চৌঘাটা কচুয়া গ্রামে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ইটভাটা হওয়ায় এটি বছরের পর বছর কীভাবে চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইতোপূর্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ করলেও রহস্যজনক কারণে কেউ তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ। তবে পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত এ ধরনের ইটভাটার বিরুদ্ধে ফের অভিযান চালাবেন বলে জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সদর উপজেলার গোপালপুরের নাজির হোসেন নামে এক ব্যক্তি চৌঘাটা কচুয়া গ্রামে সিটি ব্রিকস-২ নামে একটি ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ওই ইটভাটা সংলগ্ন স্থানে রয়েছে চৌঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশে আরো কয়েকটি বাড়িঘরও রয়েছে। মওসুমের সময় ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ভাটা সংলগ্ন বাসিন্দাদেরও একই দশা। তাছাড়া শুষ্ক মওসুমে বিদ্যালয় সংলগ্ন কাঁচা রাস্তা দিয়ে ইটভাটার ট্রাক প্রতিনিয়ত চলাচল করায় ধুলাবালি উড়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ইটভাটা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কোন সুফল মেলেনি।
চৌঘাটা কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫১ জন। কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানের ওই ইটভাটার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে আছেন। ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ার কারণে তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে ২০১৭ সালে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেননি।
সিটি ব্রিকস-২ এর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, ওই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠকালে ইটভাটা কর্তৃপক্ষও নির্মাণে অর্থ সাহায্য দিয়েছে। শুষ্ক মওসুমে তারা নিয়মিত পানি ছিটিয়ে থাকেন, যাতে ধুলাবালি উড়তে না পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ইটভাটার পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র নেই। আবেদন করা হলেও ৩ বছর ধরে তাদের কোনো ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না। অবশ্য এ নিয়ে তাদের এখনো পর্যন্ত কোনো অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়নি। পরিবেশ অধিদফতর যশোরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, ইতোপূর্বে তারা একদফা অভিযান চালিয়ে অবৈধ ১০টি ইটভাটা অভিযান বন্ধ করে দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯১৩ সালের আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থানে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে এ ধরনের অবৈধ এবং পরিবেশ অধিদফতরে ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে আরেকদফা অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ভাগ