জাতিসংঘে বাংলা নিয়ে ভাবতে হবে

0

রোবটকে বাংলায় কথা বোঝানোর প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এটাই ছিল শনিবারের একটি সংবাদের শিরোনাম। বাংলাকে জাতিসংঘের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির কথাও জানালেন মন্ত্রী। বিষয়টি চমকপ্রদ সন্দেহ নেই। যন্ত্রমানব রোবটের প্রতি মানুষের কৌতূহল অপরিসীম। এ নিয়ে যেমন নাটক-নভেল লেখা হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্রও। মানুষেরই তৈরি রোবট তার জনকের হন্তারক হয়ে উঠছে- এমন দৃশ্য দর্শক রুদ্ধশ্বাসে অবলোকন করছে। তিন বছরের কিছুটা বেশি সময় আগে বাংলাদেশেও এক রোবট আগন্তুক নিয়ে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। সোফিয়াকে ‘রোবট’ বলছি বটে, কিন্তু সোফিয়াকে আমরা, ভাবাবেগে ভরপুর বাঙালীরা, প্রায় বিদেশিনীর মর্যাদা দিয়ে ফেলেছিলাম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সোফিয়াকে সৌজন্যমূলক ‘গোল্ড মেম্বারশিপ’ দিয়েছে। কোন যাত্রী বছরে ৭৫ হাজার মাইল আকাশপথে ভ্রমণ করলে এই সুবিধা পেয়ে থাকে। সংবাদকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল কে সোফিয়ার সঙ্গে আগে কথা বলবে। এক হৃদয়হীনাকে ঘিরে আমাদের অনেকেরই চিত্তচাঞ্চল্য ঘটেছিল।
বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প এমন একটি উদ্যোগ আমাদের আকাক্সক্ষার সীমানাকে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তবে তার সঙ্গে কিছু প্রশ্নও সামনে চলে আসে। আমাদের মাতৃভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা তাতে সন্দেহ নেই। আপে হলো এখনও সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন করতে না পারা। ােভ হলো, বাংলা ভাষার ভেতর দূষণ ঘটানো এবং তাকে বিকৃতরূপে উপস্থাপনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। আমাদের স্বপ্ন হলো বাংলায় লেখা উন্নত সাহিত্যকর্মগুলো ইংরেজী ও অন্য একাধিক ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন। সর্বোপরি আমাদের স্বপ্ন হলো মাতৃভাষায় উচ্চশিা প্রদানের জন্য সুদূরপ্রসারী কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন। এসব গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবানুগ কাজ করতে গেলে স্বভাবতই রোবটযন্ত্রের বাংলা ভাষা বোঝার বিষয়টি গৌণ হয়ে ওঠে। তাছাড়া জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা বাংলা হওয়ার বিষয়টিও আমাদের একটি আবেগের বিষয়। আরবের মতো ধনাঢ্য দেশও দুই দশকের বেশি খরচ কুলিয়ে তাদের মাতৃভাষা আরবিকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে চালু রাখতে পারেনি। কেননা এতে বিপুল অর্থ যোগান দিতে হয়। আমাদের লাগবে প্রতিবছর ৬০০ মিলিয়ন ডলার। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা, একদিন না একদিন আমরা আরও ধনী হবো। বাংলার প্রতি মানুষের নজর বাড়বে। উন্নত হলে অনেকেই বাংলা শিখবে আর প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশে থেকে বাংলা শেখাবে। সেেেত্র প্রবাসীদের প্রজন্ম যাতে বাংলা ভাষা ধরে রাখতে পারে সেটার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। এগুলো করলে একদিন হয়ত জাতিসংঘের অন্যতম ভাষা হতে পারে বাংলাও। তাই আমাদের আবেগ-ভাবাবেগ চটকদার কথাবার্তা একটু দূরে সরিয়ে রেখে বাস্তববাদী হতে হবে। হতে হবে বিচণ। আমরা আশা করবো, সরকার যা করবে তা বাস্তবতা নিরিখে করবে। আবেগকে সংযত রাখবে।