স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ বৃহস্পতিবার অগ্নিঝরা মার্চের চতুর্থ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিন স্বাধিকার চেতনায় শাণিত বাঙালি জাতি আন্দোলন মুখর ছিল। গোটা দেশ তখন বিদ্রোহ বিক্ষোভে টালমাটাল। বীর বাঙালি স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের চার তারিখ ছিল দেশব্যাপী লাগাতার হরতালের তৃতীয় দিন। তবে, এই দিন হরতাল ছিল ৭টি ঘন্টার। দ্রোহ-ক্ষোভে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি তখন ক্রমেই ফুঁসে উঠছিল উপনিবেশিক পাকিস্তানকে শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে মার্চের প্রথম থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরত বীর বাঙালির হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা। অন্যদিকে, কার্ফু দিয়েও সামরিক জান্তারা বীর বাঙালিদের ঘরে আটকে রাখতে না পেরে গোপনে আটতে থাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা। শুধু অপেক্ষা করতে থাকে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কি বলেন। একাত্তরের এই দিনে ক্ষুব্ধ বাঙালির মিছিলে মিছিলে ঝাঁঝালো শ্লোগানে উচ্চচিত ছিল সারাদেশ। প্রধান শ্লোগান ছিল বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার দেশ আমাদের দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ। বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশে। এই দিনটিতে সারাদেশে সব পাড়া মহল্লায় সংগ্রাম কমিটির পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানানো হয়। নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক) ক্যান্টিনে স্থাপন করা হয় ছাত্রদের যোগাযোগ কেন্দ্র। শুধু ঢাকা নয়, দেশমাতৃকাকে হায়েনামুক্ত করতে সারাদেশেই বীর বাঙালি ফুঁসে ওঠেন। বিশেষ করে প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ এলাকার স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন।

ভাগ