মশিয়ালীতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)সংবাদদাতা॥ খানজাহান আলী থানাধীন আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালীতে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ফারুক নামের এক প্রতারক। অনেকের কাছ থেখে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে যমন চাকরি দিতে পারেনি তেমনি অনেককেই ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়েছে। এখন ভুক্তভোগীরা ওই টাকা ফেরত পেতে থানায় জিডিসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মশিয়ালী গ্রামের মৃত ওহাব আকুঞ্জীর ছেলে ফারুক আকুঞ্জী গিলাতলা এলাকার মৃত জামির শেখের ছেলে মো. তরিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার , একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে রুমান শেখের কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার, মৃত জয়নাল সরদারের ছেলে এস এম হেকমত আলীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৩ জনের চাকরি দেয়ার নাম করে সর্বমোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া আটরা পশ্চিমপাড়ার ওমর আলীর মেয়ে হাসনা হেনার কাছ থেকে আরো ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরর্বতীতে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে মেডিকেল খরচ, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ঢাকা যাতায়াত বাবদ বিভিন্ন সময়ে আরও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে তরিকুলের স্ত্রী হোসনেয়ারা সৈয়দ আমেনা গত বছরের ২৫ নভেম্বর খানজাহান আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নং ২১৫। এছাড়া রূপসা থানাধীন খান মোহাম্মাদপুর গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. নাজমুস সাকিবের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং খুলনার শিরগাতীর মো. জাকির হোসেন এর ছেলে জোবায়ের হোসেন পরশের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ল্যাটেক্স কোম্পানির খুলনা শাখায় চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বার করে ফারুক আকুঞ্জী টাকা গ্রহণ করে এবং ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র(অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার)পাইয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে। এছাড়া কয়েকজনকে ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দিয়েছে ওই প্রতারক ফারুক আকুঞ্জী। এ দিকে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত ফারুক আকুঞ্জী ভুক্তভোগী তরিকুল ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা সৈয়দ আমেনাকে হুমকি ধামকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পাওনা টাকা ফেরত ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে তরিকুেলর স্ত্রী গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি শুক্রবার খানজাহান আলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকাবাসী জানান, ফারুক আকঞ্জী চাকরি দেয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোরকাজ বিশ্বাস জানান, এ পর্যন্ত ফারুক যত লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তার পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি। প্রতিদিনই ভোরবেলা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তার কাছে টাকা ফেরত নিতে আসে অনেকেই। এ ব্যাপারে থানার ওসি তদন্ত মো. কবির হোসেন বলেন, ফারুক আকুীঞ্জর বিরুদ্ধে এর আগেও চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সর্বশেষ শুক্রবার গিলাতলা ৫ নং ওয়ার্ডের গৃহবধু হোসনেয়ারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ফারুক আকুঞ্জীর নিকট মুঠোফোনে (০১৭১৮-২০৮৬৯২) যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভাগ