আলু পেঁয়াজ কেউ খায় না, আমদানি না বাড়ালে চালের দাম কমবে না’

খুলনা সংবাদদাতা॥ আলু পেঁয়াজ এখন আর কেউ খায় না, আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি না করলে চালের দাম কমবে না’- খুলনার পাইকারী ও খুচরা বাজারে এটা এখন একটা স্লোগানে পরিণত হয়েছে। আমদানি বৃদ্ধির কারণে আলু আর পেঁয়াজের দাম তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে চাল আর ভোজ্যতেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সরকারের নির্ধারণ করা দামে কোথাও বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল। তবে সবজি বাজারে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম স্থিতাবস্থায় রয়েছে। খুলনার বড় বাজারের চালের আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালে কেজিতে বেড়েছে পাঁচ-ছয় টাকা পর্যন্ত। পাইকারী বাজারে দাম বৃদ্ধির করণে তার বিরুপ প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাজারে ধানের সংকট থাকায় চালের দামের ওপর এর প্রভাব বেড়েই চলেছে। মোটা চালের তুলনায় চিকন চালের দাম বেশি বেড়েছে। তবে এলসি করা চালের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি মোটা চাল স্বর্ণা পাঁচ ৪৮ টাকায়, বি আর আটাশ ৪৫ টাকায়, জিরাশাল ৬৫ টাকায়, কাটারিভোগ ৬৬ টাকা এবং মিনিকেট ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুলনার বিখ্যাত জলমা ভাইটাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। চাল কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর খুচরা বাজারগুলোর অন্যতম টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখন বাজারে আলু আর পেঁয়াজের দাম নেই। এতো বেশি পরিমাণে এই দুটি পণ্য বাজারে আসছে যে তা কেনার মত ক্রেতাও নেই। মনে হয় আলু আর পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে মানুষ। এই বাজারের চাল বিক্রেতারা বলেন, চালের আমদানি কম দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করায় খুচরা বাজারে দাম কমছে না। তবে অন্যদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি করা হলে আর দেশিয় নতুন চালের আমদানি বৃদ্ধি পেলে দাম কমতে পারে। এছাড়া চালের বাজারের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম। এক সপ্তাহে প্রতি লিটারে বেড়েছে ১০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার অর্ধেক তেলও সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা।
অন্যদিকে বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার দর নির্ধারণ করে দিলেও তা মানার কোনো লক্ষণ নেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ‘পাইকার ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে তো আমরা কি করবো’- এমন মন্তব্য ব্যবসায়ীদের। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) খুলনার বড়বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে জানা গেছে, পুষ্টি (৫ লিটারের বোতল) ৬০০ টাকা, ফ্রেস (৫ লিতারের বোতল) ৬৩০ টাকা, তীর (৫ লিটারের বেতল) ৬৩০ টাকা, রুপচাদা (৫ লিটারের বোতল) ৬৩৫ টাকা, বসুন্ধরা (৫ লিটারের বোতল) ৬০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১২৪ টাকা পঞ্চাশ পয়সায় বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে খুচরা বাজারে তীর (৫ লিটারের বোতল) ৬৪০ টাকা, ফ্রেস (৫ লিটারের বোতল) ৬৪০ টাকা, রুপচাদা (৫ লিটারের বোতল) ৬৫০ টাকা, বসুন্ধরা (৫ লিটারের বোতল) ৬৪০ টাকা এবং খোলা তেল প্রতি কেজি ১৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
নগরীর স্যার ইকবাল রোড়ের জনতা স্টোরের ব্যবসায়ী আমানাত হোসেন জানান, তারা এ দরেই তেল বিক্রি করছেন। পাইকারি দোকানে তেলের দাম বেশি। সরকার নির্ধারিত দামে কেন তেল বিক্রি হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, সরকার তো দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন হতে গেলে আরও সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন তেল কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে তেলের দাম আরো বাড়বে বলে আভাস দিয়েছেন। বড়বাজারের খোলা তেল ব্যবসায়ী মাহিন ট্রেডার্সের ম্যানেজার হাসান জানান, সরকার হঠাৎ এরকম ঘোষণা দিলে হবে না। কারণ প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ঘরে বর্তমানে ২০-২৫ লাখ টাকার তেল মজুদ আছে। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম কমতে হলে সরকারকে আগে মিলগেটের রেট নির্ধারিত করতে হবে। রেট নির্ধারিত হলেই বাজার দর ঠিক হবে। তা নাহলে বর্তমান যে অবস্থা আছে তার থেকে মূল্য আরো বাড়তে পারে।

ভাগ