ছেলের লাশ দাফন শেষেই আসামির নাম বাদ দিতে জেলা আ.লীগ সভাপতির বাড়িতে পারভেজের পিতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছেলের লাশ দাফন শেষ হতে না হতেই গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের বাড়িতে ছুটে যান নিহত পারভেজ বিশ্বাসের পিতা তোতা বিশ্বাস। এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কোতয়ালি থানায় গিয়ে গিয়ে শফিকুল ইসলাম সোহাগসহ ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। ওই সোহাগের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান লোকসমাজকে। পারভেজ বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় পিতা তোতা বিশ্বাসের দায়ের করা মামলায় অপর আসামিরা হলেন ঘোপ বউবাজার এলাকার জলিল হাওলাদারের ছেলে নুর আলম (৩০), ঘোপ ডিআইজি রোডের নান্টু (২৮), শাহাবুদ্দিন ওরফে বদ্দিন (২৮), জুলফি (৩১) ও ঘোপ বউবাজার এলাকার নজরুল (২০)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার পারভেজ বিশ্বাসকে বুধবার বাদ আসর জানাজা শেষে ঘোপ কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে দাফন শেষে তার পিতা তোতা মিয়া বাহাদুরপুরে নিজ বাড়ি না ফিরে সোজা ঘোপ পিলু খান রোডে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের বাড়িতে যান।
সন্ধ্যার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, তোতা মিয়া তার ও সোহাগের কয়েকজন স্বজনসহ বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি জানান, ‘শহিদুল ইসলাম মিলনের সাথে দেখা করার জন্য তিনি এখানে এসেছেন। পারভেজ হত্যা মামলায় সোহাগ আসামি হওয়ায় তার নাম কীভাবে বাদ দেয়া যায় সেই পরামর্শ ও সাহায্য নিতে এসেছেন। তবে এখনো শহিদুল ইসলাম মিলনের সাথে তার সাক্ষাত হয়নি’।
সোহাগের সাথে তার ছেলের কেমন সম্পর্ক ছিলো এবং কেন তিনি তাকে আসামি করেছিলেন আবার কেনই বা তার নাম বাদ দিতে চাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তোতা মিয়া বলেন, ‘ওইদিন (মঙ্গলবার) রাত ৩টার দিকে প্রশাসনের লোকজন গাড়িতে করে তার বাড়িতে যান। পরে তিনি তাদের সাথে কোতয়ালি থানায় আসেন। সেখানে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এবং তার কথা মত পুলিশ এজাহার লিখে নিয়ে আসে। পরে তিনি ওই এজাহারে স্বাক্ষর করেন। তিনি লেখাপড়া তেমন জানেন না। এ জন্য তার সাথে যাওয়া একজন এজাহারটি পড়ে শোনান। সেখানে তিনি সোহাগের নাম দেখতে পেয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে মারা যাওয়ায় কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ নিয়ে আর কোনো কথা না বলে পরে বাড়ি ফিরে আসেন। এজন্য আজ (বুধবার) লাশ দাফন শেষে শহিদুল ইসলাম মিলনের বাড়িতে এসেছেন বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়’। কিন্তু পরেও সোহাগের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়া যেতো। লাশ দাফন করে বাড়ি ফিরে গিয়ে পরেও তো এখানে আসা যেতো। এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ সময় অগোছালো জবাব দেন।
তোতা মিয়া জানান, পারভেজ তার একমাত্র ছেলে ছিলো। সে তার অনেক টাকা নষ্ট করেছে। বর্তমানে সে সোহাগের সাথে চলাফেরা করতো। তবে সোহাগ তাদের রক্তের সম্পর্কের কেউ নয়। তার ছেলে একটু ভালোর পথে চলতে শুরু করেছিলো। এরই মধ্যে তার ছেলেকে খুন করে দেয়া হলো। তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে নাকি তার ছেলের সাথে আসামি নুর আলমের কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। এ কারণে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তবে নুর আলমকে আটক করা গেলে তার ছেলের খুনের রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন। নিহতের বড়মামা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সোহাগের সাথে চলাফেরা করতো তার ভাগ্নে পারভেজ। যারা তাকে খুন করেছে তারাও পারভেজের সাথে চলাফেরা করতো। তবে কী কারণে তার ভাগ্নেকে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। এদিকে হত্যাকান্ডের দুদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারনি। এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই ইদ্রিসুর রহমানকে বুধবার রাতে কয়েকদফা ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে শহরের ঘোপ বউবাজারে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন পারভেজ বিশ্বাস। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ভাগ