স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের গাড়ি রাখার গ্যারেজ থেকে আয় হওয়া অর্থ লুটপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মসজিদের সহযোগিতার অজুহাতে চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী সমিতির নামে এ লুটপাট চলছে। সূত্র জানিয়েছে, ২০ বছর আগে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্মচারীরা বাইসাইকেল রাখার জন্যে ছোট পরিসরে একটি গ্যারেজ তৈরি করেন। কয়েকটি টিনের ছাউনি দিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে তৈরি করা গ্যারেজটি ছিল কর্মচারীদের সাইকেল রাখার নিরাপদ স্থান। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির নামে পরিচালিত হয় গ্যারেজটি। সে সময় কর্মচারীদের নিজ সাইকেল রাখার জায়গা থাকলেও বর্তমানে গ্যারেজটি আগের মতো নেই। গ্যারেজটি এখন বাইরের লোকের সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, আলমসাধু রাখার গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। প্রতিমাসে এ গ্যারেজ থেকে আয় হয় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ থেকে প্রতিমাসে মসজিদে দেয়া হচ্ছে ৭ হাজার টাকা, অফিস খরচের নামে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা দু’জন কর্মচারীর বেতন বাবদ ১৪ হাজার টাকা সমিতির নামে ৩ হাজার টাকা মিলে ২৬ হাজার টাকা মোট ব্যয় ১৬ হাজার টাকা। বাকি টাকার কোন হিসেব থাকে না। মোটা অংকের এ টাকা কোথায় যায় তা জানে না চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নেতৃবৃন্দ। সূত্র জানিয়েছে, মাস্তানদের এ টাকার ভাগ দিতে হয়। এছাড়াও অনেকে ভাগ পান। অফিসকে ২ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলা হলেও আসলে কত টাকা দেয়া হয় বলতে চান না কর্মচারীরা। হাসপাতালের কর্মচারী আঞ্জুয়ারা ওরফে আঞ্জু সরকারি দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি গ্যারেজটি পরিচালনা করেন। কর্মচারীরা তাদের ডিউটিকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ গ্যারেজ পরিচালনা করেন।
সূত্র জানায়, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যারেজে সাইকেল ও মোটরসাইকেল মিলে ৪শ’ থেকে ৫শ’ বাহন রাখা হয়। প্রতিটি বাইসাইকেল থেকে ৫ টাকা ও মোটরসাইকেল থেকে ১৫ টাকা করে নেয়া হয়। মাঝেমধ্যে ভ্যান, রিকশা, আলমসাধু ও ইজিবাইক রাখা হয় সেখানে। সব মিলে প্রতিমাসে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় হয় গ্যরেজ থেকে। যে টাকার বেশিরভাগ নষ্ট হচ্ছে। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে সরকারের মোটা অংকের টাকা আয় হতো যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের গ্যারেজ থেকে। শহরের সবচেয়ে বড় গ্যারেজ হচ্ছে এটি। শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের নন, আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল, কিনিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শহরে আসা লোকজন তাদের বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য বাহন নিরাপদ স্থান হিসেবে হাসপাতাল গ্যারেজে রেখে যান। ছোট একটি চালা গ্যারেজ হিসেবে দেখানো হলেও এ গ্যারেজের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। এ জায়গায় এক সাথে ২শ’ বাহন রাখা যায়। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, অনেক আগে থেকে গ্যারেজ চলে আসছে। বিষয়টি আমি তেমন জানি না। মসজিদ কমিটি ও কর্মচারীরা বিষয়টি ভালো বলতে পারবে। কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা বললে তিনি মোট খরচ ২৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন। বাকি টাকা কোথায় যায় তা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।





