ঝাঁপা বাঁওড়ে ২৫ ঘন্টা পর নিখোঁজ কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

মজনুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর)॥ মনিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ে সহপাঠীদের সাথে সাঁতার কাটার সময় পানিতে ডুবে নিখোঁজের ২৫ ঘন্টা পর শুক্রবার দুপুর একটার দিকে কলেজছাত্র সোয়েব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাঁওড়ে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় বাঁওড় তীরে সোয়েবের বাবা-মা, স্বজনসহ সহপাঠীদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত সোয়েব যশোর আরিফপুর এলাকার পরিবহন সুপারভাইজার শাহিন হোসেনের ছোট ছেলে। তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
যশোর পাইসাইন্স কেয়ার কোচিং সেন্টারের ছাত্র সাকিবুল হাসান জানান, কোচিং সেন্টার থেকে সহপাঠী সোয়েবসহ তারা মোট ১৯ জন শিার্থী বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে যান মনিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু দেখতে। পরে তারা একটি ট্রলার ভাড়া করে বাঁওড়ে নামেন। দুপুর ১২ টার দিকে ভাসমান সেতুর পাশে পৌঁছালে ট্রলার থেকে সোয়েব হোসেন, তন্ময় ও রিফাত তিনবন্ধু সাঁতার কাটতে লাফ দেয় বাঁওড়ের পানিতে। এর কিছুক্ষণ পর তন্ময় ও রিফাত তীরে উঠে আসলেও নিখোঁজ হয় সোয়েব।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং খুলনা থেকে ডুবুরি দল যৌথভাবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বাঁওড়ে তল্লাশি চালিয়েও সোয়েবকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু রাতভর সোয়েবের বাবা-মাসহ স্বজনরা বাঁওড়ের তীরে অবস্থান নিয়ে আহাজারি করতে থাকেন। মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতের কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিরতি দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে আবারও বাঁওড়ে তল্লাশি চালানো হয়। ডুবুরিদল একপর্যায়ে দুপুর একটার দিকে পানির নিচ থেকে সোয়েবের মরদেহ উদ্ধার করেন। তল্লাশির সময় বাঁওড়ের পাশে সোয়েবের বাবা-মা আতী¥য়স্বজন, সহপাঠীসহ হাজারো জনতার ভিড় হয়। পানি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাঁওড়ের তীরে নিয়ে আসলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সোয়েবের মরদেহ জড়িয়ে ধরে বাবা-মাসহ স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সোয়েবের নিকট আত্মীয় মনিরামপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি জানান, সোয়েবের বাবা শাহিন হোসেন ঈগল পরিবহনের সুপারভাইজার এবং মা লাকি বেগম একটি কিনিকে চাকরি করেন। সোয়েবের বড় ভাই শোভন ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মনিরামপুর থানার পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দুপুর আড়াইটার দিকে সোয়েবের মরদেহ তার পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভাগ