স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর(যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে ছিনতাইকারী সন্দেহে কলেজ ছাত্র বোরাহানুল কবিরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তপন কুমার নন্দীকে অব্যহতিসহ দুই কর্মকর্তাকে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বৃহস্পতিবার তাদেরকে প্রত্যাহারের পর যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনিরামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(ওসি)রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও মামলার প্রধান আসামি আটক নাইম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জানাযায়, মনিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুর এলাকার ট্রেকার চালক আহসানুল কবিরের ছেলে সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র, মানসিক রোগী বোরহানুল কবির গত ৬ ফেব্রুয়ারি(শনিবার) সকালের দিকে বাইসাইকেল চালিয়ে রাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ১২ টার দিকে রাজগঞ্জ-হেলাঞ্চি সড়কের খালিয়া গ্রামের রাস্তার পাশে পৌঁছালে তাকে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী সন্দেহে কৃঞ্চবাটি গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে নাইম হোসেনসহ অপর এক ব্যক্তি মারপিট করে। এক পর্যায়ে তারা ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে আশাপাশের লোকজন এসে বোরহানকে বেধড়ক মারপিটে রক্তাক্ত করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই তপন কুমার নন্দীসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তাকে চিকিৎসার পরিবর্তে হাতে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বাইরে মাটিতে বসিয়ে রাখেন। এসময় বোরহানুল কবিরের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। খবর পেয়ে বোরহানের অভিভাবকরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান তাকে চিকিৎসার জন্য আনতে। কিন্তু এ সময় তদন্ত কেন্দ্র থেকে তাকে ছাড়া হয়নি। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শাহাজান আলী। বোরহানের বাবা আহসানুল কবির জানান, এক পর্যায়ে মানসিক রোগের চিকিৎসার সব ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র দেখালে পুলিশ দুপুর আড়াইটার দিকে তদন্তকেন্দ্র থেকে বোরহানকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় এ্যাম্বুলেন্সে করে বোরহানকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তিতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করলে প্রধান আসামি নাইম হোসেনকে পুলিশ আটক করে। অপরদিকে বোরহান হত্যা, চিকিৎসা না করানোসহ পুলিশের দায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ থানা ঘেরাও করে। মনিরামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বোরহান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই তপন কুমার নন্দী এবং এএসআই ওয়াসিমকে প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মামলার প্রধান আসামি আটক নাইম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।





