চীনের গবেষণাগার থেকে করোনা ছড়ায়নি :বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে চীনের উহানে অবস্থানকারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দল গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান পিটার বেন এমবারেক বলেন, উহানের কোনো গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছে এটা ‘খুবই অসম্ভব’। ভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক বিশেষজ্ঞ জানান, অনুসন্ধানের নজর এখন দণি পূর্ব এশিয়ার দিকে যেতে পারে। ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলটি এখন তাদের মিশনের শেষের দিকে রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ড. এমবারেক বলেন, অনুসন্ধানে নতুন তথ্য বের হয়েছে কিন্তু প্রাদুর্ভাবের চিত্রে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে অনুসন্ধানের নজর ছিল বাদুড়ের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের দিকে। কিন্তু এটা (উৎস) উহানেই হয়েছে এমন সম্ভাবনা কম। এমবারেক বলেন, প্রাণির সূত্র বের করার কাজ এখনো চলছে কিন্তু একটি মধ্যবর্তী প্রজাতি থেকে তা মানুষের শরীরে এসেছে এমন সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই উহানে ভাইরাস ছড়াচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ লিয়াং ওয়ানিয়ান বলেন, উহানে শনাক্ত হওয়ার আগেই হয়তো করোনাভাইরাস অন্য অঞ্চলে ছিল। ‘কোল্ড চেইন’ সংক্রমণ বা হিমায়িত খাদ্য পরিবহণ ও বিক্রির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা তা জানতে আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দলটি। বিশেষজ্ঞ দলের আরেক সদস্য পিটার ড্যাসজ্যাক বলেন, ভাইরাসের উৎস খুঁজতে অনুসন্ধান এখন পূর্ব এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা চীনে অনেক কাজ করেছি এবং আপনি যদি তা চিহ্নিত করেন তবে তা সীমান্তের দিকে ইঙ্গিত করতে শুরু করে। এবং আমরা জানি যে দণি পূর্ব এশিয়ার পুরো অঞ্চলের মধ্যে সীমান্তের অপর দিকটিতে খুব কম নজরদারি রয়েছে।’ ‘চীন অনেক বড় একটি জায়গা এবং দণি পূর্ব এশিয়াও অনেক বড়। হুয়ানানের সামুদ্রিক খাদ্যের সাপ্লাই চেইন অনেক বড় ছিল, এগুলো অন্য দেশ থেকে আসতো, এগুলো চীনের অনেক অংশ থেকেও আসতো। তাই এর সূত্র অনুসরণ করতে কিছু কাজ করতে হবে,’ বলেন পিটার। এখন মূল নজর এই সাপ্লাই চেইনগুলোর ওপরেই থাকবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, বেইজিং এর সঙ্গে বেশ কয়েক মাসের আলোচনার পর গত জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মিশন শুরু হয়। মিশনে বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শন চীনা কর্তৃপরে ঘনিষ্ঠ পর্যবেণের আওতায় ছিল।
সু চির রাজনৈতিক কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল সেনাবাহিনী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলদি) ইয়াঙ্গুনের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এনএলডি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুকে পেইজে এক পোস্টে জানায়, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে সামরিক স্বৈরশাসক এনএলডি সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। ’গত নভেম্বর মাসে নিয়ানমারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। দেশটির শাসনভার নেন সেনাপ্রধান মিন অং হলাইং। সেই সঙ্গে সু চি, মিয়াননমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ড এবং এনএলডির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করে গৃহবন্দি করে সামরিক জান্তা। এর পরপরই মিয়ানমারে বছরব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের ঘোষণা সৌদি আরবের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সৌদি আরব বিচার ব্যবস্থার দতা ও অখ-তা বৃদ্ধির ল্েয সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ উদ্দেশ্যে সাজনো নতুন এক সেট খসড়া আইন অনুমোদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এ পদেেপর মাধ্যমে সৌদি আরব পুরোপুরি লিখিত আইনের দিকে পথচলা শুরু করল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। রণশীল সৌদি আরবকে আধুনিক করার ল্েয ধারাবাহিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছেন যুবরাজ সালমান। কিন্তু দেশটির কোনো লিখিত সমন্বিত আইনি পদ্ধতি নেই। সোমবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এসপিএ যুবরাজের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, পারিবারিক আইন, নাগরিক লেনদেন আইন, বিবেচনামূলক নিষেধাজ্ঞা আইন ও স্যা আইন- এই চারটি নতুন আইন বর্তমানে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এগুলো মন্ত্রিসভা ও প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি শুরা কাউন্সিলের কাছেও জমা দেওয়া হবে। এক বিবৃতিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বলেছেন, “নতুন আইনগুলো সংস্কারের নতুন ধারার প্রতিনিধিত্ব করে, এর মাধ্যমে মামলার রীতি ও তদারকির পদ্ধতিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে আর এগুলো ন্যায়বিচারের নীতিগুলো অর্জনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং জবাবদিহিতার পথ স্পষ্ট করবে।” সোমবার সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শীর্ষ আন্তর্জাতিক মান ও অনুশীলন অনুযায়ী চারটি প্রধান ও মূল আইনের পরিষ্কার লিখিত ভাষ্য নির্ধারণের মানে হচ্ছে সৌদি আরব আধুনিক বিশ্বের চাহিদা মেটাতে ইসলামিক শরিয়া নীতি মেনে ‘অবশ্যই সমগ্র আইনের লিখিত ভাষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে’। “বেশ ভাল ও স্বতন্ত্র একটি বিচার বিভাগ থাকলেও প্রধান সমালোচনা হচ্ছে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিচারকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার উল্লেখযোগ্য স্বাধীনতা আছে, তাতে অসঙ্গতি ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়,” বলেছেন তিনি। কোনো লিখিত আইন না থাকায় কয়েক দশক ধরে নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে আদালতের রায়গুলোর মধ্যে ফারাক দেখা যাচ্ছে আর মামলা-মকদ্দমায় দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে, এতে অনেক সৌদি তিগ্রস্ত হচ্ছেন যাদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।





