বাগেরহাটে দরিদ্রদের চিহ্নিত করে লোন দিয়ে জোর করে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছেন আনন্দ মোহন!

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র লোকদের লোন দিয়ে জোরপূর্বক দ্বিগুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ‘রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ওই প্রষ্ঠিানের অবৈধ সুদের ব্যবসা বন্ধ ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিগ্রস্ত ঋণ গ্রহীতারা।বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেস কাব মিলনায়তনে তিগ্রস্ত ঋণ গ্রহীতা ও এলাকাবাসীর পে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খিতিস চন্দ্র বালা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজ নামে জনৈক আনন্দ মোহন বিশ্বাস এলাকার মানুষের ওপর নানাভাবে নিপীড়ন চালিয়ে আসছেন। আনন্দ মোহন বিশ্বাস এলাকার শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ঋণ দিয়ে থাকেন। তিনি যে টাকা ঋণ দেন- গ্রহীতার কাছ থেকে তার দ্বিগুণ টাকা আদায় করেন। আর কোনো গ্রহীতা টাকা দিতে না পারলে, বা অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শুরু হয় অত্যাচার।
আনন্দ মোহন বিশ্বাস ও তার কর্মীদের অত্যাচারে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের হালিশহর গ্রামের অমল মন্ডল ও দেবাশীষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এলাকার ১৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেনেসাঁর মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাসকে তাকে এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তারপরও তিনি স্থানীয় মানুষকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও অত্যাচার করে যাচ্ছেন। এর প্রেেিত আমরা বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের দফতরে রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। এই অভিযোগের প্রেেিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তও করেছেন।
এরপরেও তার অনৈতিক কাজ বন্ধ নেই। আমরা এলাকায় এ ধরনের অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। এই অবৈধ কাজ বন্ধ না হলে এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে। তিগ্রস্ত ঋণ গ্রহীতা লতিকা গোলদার বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে। এখন আমার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না পেরে আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি এই অত্যাচারীর হাত থেকে মুক্তি চাই। আরেক ঋণ গ্রহীতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ বালা বলেন, আামি ১ লাখ টাকা নিয়ে ঋণ নিয়েছিলাম, রেনেসা এন্টারপ্রাইজের মালিক এখন ২ লাখ টাকা দাবি করছেন। আমি এত টাকা কোথায় পাব। শুধু আমি নয়, এলাকার অনেকের কাছ থেকেই ঋণের দ্বিগুণ টাকা আদায় করছেন আনন্দ মোহন বিশ্বাস।
রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজের মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাস বলেন, আমাদের কোনো ঋণ কার্যক্রম নেই। তবে বাগেরহাট সদর উপজেলার বাখোরগঞ্জ বাজারে রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকান রয়েছে। যেখান থেকে চাষিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল প্রদান করা হয় বাকিতে। বাকি টাকা সর্বোচ্চ চার বছর সময়ে দেওয়ার সুযোগ রযেছে। যারা চার বছরের বেশি সময় পরে টাকা প্রদান করেন তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজের নামে একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা যথাযথ নিয়মে তার তদন্ত করছি। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে রেনেসাঁ এন্টারপ্রাইজের মালিক ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র এখন পর্যন্ত আমাদের দেখাতে পারেননি। যেহেতু বিষয়টি আর্থিক সে কারণে অভিযোগকারীদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ারও সুপারিশ করেন তিনি।

ভাগ