জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল মানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত মানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান দেখানো। তাদের অবদানকে অস্বীকার করা। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানস্বরূপ বীরউত্তম খেতাব পাবেন কি-না, জনগণ তাকে সম্মানীত করবে কি-না ? সে জন্য তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে নিজেই রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেননি। তিনি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ নিবির্মাণ ও বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আজকে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকার অত্যন্ত নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আজকে তাদের মধ্যে ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা বোধটুকুও নেই, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার ৩৪, পাবনার ৪৭, নেতা-কর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজা প্রদান ও দলের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদকে কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, সরকার শহীদ জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিল করলেও জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, গত ১৩ থেকে ১৪টি বছর দেশে সীমাহীন দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে গোটা দেশ কারাগারে পরিণত করেছে। মিডিয়াকে বল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার না করতে বাধ্য করেছে। অথচ, লন্ডনে ঘরোয়াভাবে উনি কিছু বললেও সেটি নিয়ে মামলা হয়। লন্ডনে একটি ঘরোয়া আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান করে কথা বলার মিথ্যা অভিযোগে নড়াইলের আদালতে তার বিরুদ্ধে যে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয় তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। যে জনৈক শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তিনি হাজার কোটি টাকার সম্মান নিয়ে বেঁচে আছেন এটি আমাদের জানা ছিল না। যদি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কিছু বলার অভিযোগে মানহানির মামলা হয়ে থাকে তাহলে তার উত্তরসূরী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা ছাড়া আর কেউ করতে পারেন না। তারপরও সেই মামলার সরকার আদালতকে প্রভাবিত করে তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল-জাজিরায় বাংলাদেশের যে স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তারেক রহমানসহ দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর নামে সাজা প্রদান করছে। আজকে জনগণ সরকারের এমন তামাশার বিচার দেখতে দেখতে ক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। জনগণ ঠিকই এর বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। কারণ, সরকার শুধু বিএনপি নয়, গোটা জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আজমের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী, বিএনপি নেতা আযুব হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পদিকা রাশিদা রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।

ভাগ