যশোরের রেলগেটে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শহরের রেলগেট ইসমাইল কলোনিতে আইরিন সুলতানা রিনি (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর স্বামী মইনুল হাসান পিয়াস তাকে হত্যা করেছেন বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ। পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত আইরিন সুলতানা রিনি শহরের খালধার রোডের মৃত আবুল কাশেম মাতবরের মেয়ে। তার স্বামী মইনুল হাসান পিয়াস বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড সংলগ্ন শহিদ সড়কের মিজানুর রহমানের ছেলে। তারা স্বামী-স্ত্রী রেলগেট ইসমাইল কলোনি এলাকার আব্দুর রবের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের ভাই গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ভগ্নিপতি পিয়াস একজন মাদকাসক্ত। প্রায়ই তিনি তার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তার বোন তাকে মোবাইল ফোন করে জানান যে, পিয়াস তার সাথে ঝগড়া করছে। এরপর দুপুরে তিনি জানতে পারেন, তার বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে তার বোনের মরদেহ দেখতে পান। তার বোনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেয়া মেয়ে জাফরিন ওরফে জান্নাতি (৮) জানায়, ‘সকালে মায়ের সাথে বাবার ঝগড়ার সময় তাকে পাশের ঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর কী হয়েছে তা সে বলতে পারে না।’
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, ওই নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন। তার (আইরিন সুলতানা রিনি) গলা ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, দুটি কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর ওই নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ওই নারীর গলাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছিল। এছড়া দুটি কানে লালচে কাটা দাগ রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে তাকে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনসপেক্টর রোকিবুজ্জামান জানান, আইরিন সুলতানা রিনির দ্বিতীয় স্বামী মইনুল হাসান পিয়াস। রিনির প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেয়া জান্নাতী বলে এক মেয়ে আছে। শোনা যাচ্ছে, রিনির প্রথম স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জান্নাতিকে দেখতে আসেন তার (জান্নাতির) দাদি। পরে তিনি চলে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঘটনার পর পিয়াস বাইরে চলে গেলে আশেপাশের লোকজন ঘরে ঢুকে রিনিকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রিনি মারা যান বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

ভাগ