স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনের তিনদিন আগেই যশোরের বাঘারপাড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিরীহ নির্বিচারে গণগ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। নৌকার প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে গোটা পৌরসভা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশ বিএনপি যুবদল নেতাকর্মী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ২শ’ জন সমর্থককে আটক করে।
আগামী ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাঘারপাড়া পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের বহিরাগত লোকজন বাঘারপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাড়ি ও তাদের সমর্থকদের বাসা-বাড়িতে হামলা অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর চালায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এতে এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ ঘটনার সূত্র ধরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান বাচ্চু বাঘারপাড়া থানায় বাদি হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আর দুইশ’ জনের নামে মামলা দায়ের করে। আরও একটি মামলা করেন মহিরন গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সামবিল্লাহ। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাসিন্দারাও পাল্টা আরেক অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এলাকার সাধারণ ভোটারদের এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে পুলিশ নৌকার প্রার্থী কামরুজ্জামানা বাচ্চু ও সামবিল্লাহর মামলা রেকর্ড করে পৌর এলাকায় গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। বুধবার রাত থেকে বৃস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে ৮ জনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান। প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হাই মনা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তাহের সিদ্দিকীর অভিযোগ নৌকার প্রার্থী ভোটের আগে মাঠ ফাঁকা করতে পরিকল্পিতভাবে এ নোংরা খেলা শুরু করেছে। দলীয় লোকজনদের পাশাপাশি পুলিশ দিয়ে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব একমাত্র টার্গেট একতরফা নির্বাচনের। তবে পুলিশ বলছে, কোনো নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে আটক করা হচ্ছেনা। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদেরকেই আটক করা হচ্ছে।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাই মনা বলেন, নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে প্রশাসন নৌকার প্রার্থীর হয়ে ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড শুরু করেছে। বুধবার রাতে বাঘারপাড়া পৌর এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটকের চেষ্টা চালায় পুলিশ। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি শামসুল হুদা লুলুসহ আশপাশের কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে ৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটক হওয়া এসব নেতাকর্মীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোর আদালতে পাঠানো হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় পৌর এলাকা থেকে আরও বেশ কিছু মানুষকে আটক করা হয়। তারা কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে সে বিষয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলছেনা। অপর দিকে জগ মার্কার (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আবু তাহের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রার্থী ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য মিথ্যা কাল্পনিক মামলা সাজিয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায় গেছে যে এলাকায় নৌকার সমর্থক আর ভোটাররা ছাড়া কেউ নেই। তিনি বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষ নেবেনা। কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এসে প্রশাসন একেবারেই উল্টো পথে হাঁটছে। এতে নুন্যতম নির্বাচনী পরিবেশ নেই। এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন বলেন, যাদের নামে থানায় সুনির্দিষ্ট এজাহার বা অভিযোগ আছে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে আটক করার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা। আর এর সাথে পৌর নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।





