বাগদত্তাই ফাঁদ পাতে অপহরণের!

স্টাফ রিপোর্টার॥ আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনকে অপহরণের ফাঁদ পাতে তার বাগদত্তা রাবেয়া সুলতানা রিতু। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক মিলনকে বান্ধবী সুরাইয়ার বাড়িতে নিয়ে যায় রিতু। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ দফতরে প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।
পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, পারিবারিকভাবে মিলন ও রিতুর বিয়ে ঠিক হলেও তারা জানতো না রিতু উচ্চাভিলাসী জীবনযাপনের জন্য নানা অপরাধে জড়িত এবং মাদকাসক্ত। এর আগেও দুটি অপরাধে জড়িত ছিল সে। কিন্তু সেগুলোতে পার পেয়ে যায়। স্কুল বান্ধবী সুরাইয়ার সঙ্গে পরিকল্পনা করে মিলনকে অপহরণ করে। সুরাইয়া ও তার স্বামী রাজও নানা অপরাধে জড়িত। তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণ করে টাকা আদায় করতো। এ ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমায়েসখানা দেয়াড়া গ্রামের আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে শাহীন শিকদার (১৮), জামির সরদারের ছেলে আবদুস সালাম (২৪) ও সাতক্ষীরা সদরের সুলতানপুর বড়বাজার এলাকার আজমল হকের মেয়ে সুরাইয়া (২০)। ভিকটিম আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলন (৩৩) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের এম এ হাকিমের ছেলে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে।
পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, পারিবারিকভাবে আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনের সঙ্গে সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার প্রতাবনগর গ্রামের এস এম হারুনুর রশিদের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা রিতুর বিয়ে ঠিক হয়। গত শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিলন বাড়ি থেকে বের হয়ে খুলনা পাইওনিয়ার কলেজের সামনে বাগদত্তা রিতুর সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মিলন তার বন্ধু হাফিজুরকে ফোন করে বিপদে আছে ও তার টাকা প্রয়োজন বললে হাফিজ তাকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং দুলাভাইয়ের মোবাইলে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তাকে মারপিট করে কান্নাকাটির আওয়াজ শোনানো হয়। মুক্তিপণ না দিলে মিলনকে হত্যা করা হবে বলেও জানান তারা। ৮ ফেব্রুয়ারি মিলনের বাবা সাতক্ষীরার তালা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন মিলনের দুলাভাই শরিফুল ইসলাম। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ওইদিন খুলনার দৌলতপুর মাছবাজার ঘাট এলাকা থেকে আসামি শাহীন শিকদারকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রাম থেকে আবদুস সালাম (২৪) ও সুরাইয়াকে (২০) গ্রেফতার ও ভিকটিম আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন আরও বলেন, মিলন ও রিতু শনিবার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পার্কে ঘুরতে যায়। সেখানে অভিযুক্ত সুরাইয়ার সঙ্গেও তাদের দেখা হয়। সুরাইয়া চা পানের কথা বলে মিলন ও রিতুকে যশোরের অভয়নগর থানার একাতারপুর গ্রামের বাসায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমকে বাসায় রেখে বাগদত্তা রাবেয়া সুলতানা রিতুকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে শাহীন শিকদার, আবদুস সালাম, সুরাইয়া ও হাবিব মিলন ওরফে রাজ পরিকল্পনা মোতাবেক ভুক্তভোগী মিলনকে বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট করে। এক পর্যায়ে মিলনের পরিবারের কাছে ত্রিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ভাগ