ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা॥ খুলানার ডুমুরিয়ায় কলেজছাত্র সুদর্শন রায় (২৫) হত্যা মামলায় মা-ছেলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলার বিপুল বিশ্বাস নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) খুলনার অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ডুমুরিয়ার বিপুল বিশ্বাসের স্ত্রী দ্রৌপদী বিশ্বাস (৪৫) ও তার ছেলে কংকন বিশ্বাস (২৮)। আদালত দ্রৌপদী বিশ্বাসকে আরও একটি ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়াও উভয়কে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট এম ইলিয়াস হোসেন জানান, কলেজছাত্র সুদর্শন রায় হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত মা-ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়াও একজনকে খালাস দিয়েছেন। এজাহারে জানা যায়, বটিয়াঘাটার সুকুমার রায়ের ছেলে সুদর্শন রায় (২৫) ছোটবেলা থেকে সুদর্শন ডুমুরিয়ার বড়ডাঙ্গা এলাকার মামা দীনবন্ধু মন্ডলের বাড়িতে বসবাস করতেন। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার কথা বলে রাতে সুদর্শন রায় বাড়ি থেকে বের হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ডুমুরিয়া মির্জাপুর তিন রাস্তার মোড়ে কালভাটের কাছে স্থানীয় তুহিন বিশ্বাসের সাথে হয়। সুদর্শনের কথাবার্তা এরপর সে একা মির্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে রওনা হন। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা সুদর্শনকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। আসামিরা আমার ভাগ্নে সুদর্শনকে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য নৌকাযোগে ডুমুরিয়ার মির্জাপুর গ্রামের দক্ষিণ দিকে অরুণ কুমার মহলদারের পুকুর পাড়ের উপর ফেলে রাখে। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখে আমাকে সংবাদ দেয়। আমিসহ বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করি। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে তিনি মামলা দায়ের করেন।





