‘ভারত বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে চেয়েছিল, বঙ্গবন্ধু তা হতে দেননি : ডা.জাফরুল্লাহ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তা হতে দেননি। ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ না হলে দণি এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘সাম্প্রতিক কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং দণি এশিয়ার স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের মাধ্যমে ইসরায়েলের একজন প্রতিনিধি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অর্থ ও অস্ত্র দেয়ার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। তারা বলেছিল, এইজন্য তাদের সঙ্গে দুইটি চুক্তি করতে হবে। দেশ স্বাধীনের পর অস্ত্র কোথায় যাবে তা তারা ঠিক করে দেবে আর টাকা দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ফেরত দিলেও চলবে। বিনিময়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। ইসরায়েল সেদিন চুক্তি করতে না পারলেও তারা আশা ছাড়েনি। এখন সেই ইসরায়েলের যন্ত্র দিয়ে আমাদের জনগণের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশকে সিকিম বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ মুজিব সেটা হতে দেননি। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে যাননি। স্বাধীন হওয়ার পরও ভারত প্রস্তাব দেওয়ার পরও তিনি ভারতের বিমানে না এসে ব্রিটিশ বিমানে আসেন। তিনি ভারতে নামতেও চাননি। তবে পরে নেমেছিলেন। কারণ শেখ মুজিব বুঝেছিলেন ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। তিনি বলেছিলেন, আমি বাঙালি ও মুসলমান। তখনই ইন্দিরা গান্ধী বুঝেছিলেন শেখ মুজিবকে ট্যাকেল করা সহজ হবে না। জাফরুল্লাহ বলেন, দণি এশিয়া এবং বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের পরিবর্তে আমাদের পাকিস্তান-ইরান-সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকদের এখন নিয়মিত গবেষণা করা উচিত, ভারতে প্রতিনিয়ত কি হচ্ছে তার খোঁজ খবর রাখা উচিত। তাদের সবকিছু আমাদের দৃষ্টিতে রাখতে হবে। তাদের ইঁদুর নীতি বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের েেত্র সব সময় রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিতেন, আপনিও পিতার মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিন। মোসাদদের আপনার পাশ থেকে সরিয়ে দিন। কাশ্মীর ও উলফাদের প নিন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ভারত আমাদের কি কি বিষয়ে নাক গলায় তা আমি সেনাবাহিনীতে থাকতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকাকালে দেখেছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে যতটুকু সমস্যা ছিল কাশ্মীরে তার থেকেও বড় সমস্যা চলছে। ভারত এখন কাশ্মীরকে আগ্নেয়গিরি করে রেখেছে। সেখানে চতুর্থ মুক্তি আন্দোলন চলছে। ভারতের সাথে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আগামী দিনে দণি এশিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে তার প্রধান কারণ হবে কাশ্মীর। এ জন্য সরকারকে কাশ্মীরের পে দাঁড়াতে হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসিরের সভাপতিত্বে ও ‘সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ: বাংলাদেশ’ এর সম্পাদক কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ইসহাক মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. এহসানুল হক মিলন, সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) আশরাফ আল দ্বীন পিএসসি, কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক এ এফ এম করিম, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর আবুল বাশার খান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাকিব আলী।

ভাগ