লোকসমাজ ডেস্ক॥ ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করতে পারবেন, এমন বিশ্বাস খোদ মেহেদি হাসান মিরাজেরই ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেই অবিশ্বাস্য কাজটিই করে ফেলেছেন মিরাজ, খেলেছেন ১০৩ রানের ইনিংস। আর বল হাতে স্বাভাবিকভাবেই ঘরের মাঠের দুর্বার পারফরম্যান্স বজায় রেখেছেন তিনি। যার সুবাদে একগাদা রেকর্ডের হাতছানি এখন মিরাজের সামনে। চলতি ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা ছিলেন সাকিব আল হাসান। ছয় নম্বরে নেমে তিনি খেলেছিলেন ৬৮ রানের ইনিংস। সাকিবের কাছ থেকে বোলিংয়েও অনেক প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬ ওভার বোলিং করে বাম উরুর ইনজুরিতে ছিটকে যান সাকিব। চলতি ম্যাচের তার আর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে বড় দায়িত্ব বর্তায় দলের বাকি স্পিনারদের ওপর। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে সেই দায়িত্ব পালনে সবার চেয়ে সফল মিরাজ। পরে আজ (শনিবার) ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসেও একাই ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন এ ডানহাতি অফস্পিনার। ম্যাচে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জয়ের সুবাতাস পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। শেষদিনে আর ৭ উইকেট নিতে পারলেই আসবে টাইগারদের জয়। দলীয় সাফল্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম পয়েন্টের বাইরেও ব্যক্তিগত অর্জনের অনেক রেকর্ড ডাকছে মিরাজকে। এখনও পর্যন্ত ম্যাচে তার সংগ্রহ ১১০ রান ও ৭ উইকেট। আর মাত্র ৩ উইকেট পেলে অন্তত তিনটি দারুণ রেকর্ডে নাম লেখাবেন তিনি। যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদার নিশ্চিতভাবে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখনও পর্যন্ত রয়েছে শুধুমাত্র তিনজন ক্রিকেটারের। তারা হলেন স্যার ইয়ান বোথাম (১৯৮০), ইমরান খান (১৯৮৩) ও সাকিব আল হাসান (২০১৪)। টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে এখন ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের রেকর্ডের সামনে মেহেদি মিরাজ। তবে এ রেকর্ড থেকে সেঞ্চুরি বাদ দিয়ে ১০০ রান ও ১০ উইকেট হিসেব করলে যোগ হবে আরও একটি রান। ১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টে ১২৪ রান ও ১১ উইকেট নিয়েছিলেন ডেভিডসন। তবে তিনি সেঞ্চুরি হাঁকাননি। দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে করেন ৪৪ ও ৮০ রান, বল হাতে নেন ১১ (৫ ও ৬) উইকেট।
অলরাউন্ড রেকর্ডের বাইরে বোলার মিরাজের সামনে এখন ১০০ টেস্ট উইকেটের হাতছানি। মিরাজের ২৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত শিকার ৯৭টি উইকেট। বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মালিক হবেন মিরাজ। তার আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ১০০ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। এ চারজনের চেয়ে দ্রুততম সময়ে একশ উইকেট নেয়ার সুযোগ মিরাজের সামনে। ২০০৮ সালে নিজের ৩৩তম ম্যাচে মোহাম্মদ রফিক, ২০১২ সালে নিজের ২৮তম ম্যাচে সাকিব আল হাসান ও ২০১৯ সালে নিজের ২৫তম ম্যাচে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তাইজুল ইসলাম। চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন আর মাত্র ৩ উইকেট পেলে মাত্র ২৩ ম্যাচেই উইকেটের সেঞ্চুরি হয়ে যাবে মিরাজের। উইকেটের সেঞ্চুরি করতে পারলে ম্যাচেও দশ উইকেট হয়ে যাবে ২৩ বছর এ অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের। টেস্টে এখনও পর্যন্ত ২ বার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। তার সমান দুইবার ম্যাচে ১০ উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে সাকিবেরও। রোববার এ রেকর্ডটিও নিজের করে নিতে পারবেন কি না মিরাজ?- তাই দেখার বিষয়। অর্থাৎ একটি রেকর্ডের সঙ্গেই মূলত জড়িয়ে তিনটি রেকর্ড। ম্যাচের শেষদিন মিরাজ ৩টি উইকেট পেলে তিনটি অসাধারণ রেকর্ডেরও মালিক হয়ে যাবেন।





