স্টাফ রিপোর্টার ॥ দ্বিতীয় স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে মারধর-নির্যাতন ও গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ করেছেন শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এমনকী ওই ব্যক্তির টাকা-পয়সাসহ সকল সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে তাকে তাড়িয়েও দেওয়ারও অভিযোগ করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগে মঙ্গলবার যশোরের আদালতে একটি মামলা হয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন অভিযোগটি আমালে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের মৃত শহর আলী গাজীর মেয়ে রহিমা খাতুন (২৬), ছেলে সামসুর রহমান (২৪) ও স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৬০)।
সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নিছার আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, কেশবপুরের মধ্যকুলে আসামিদের বাড়ির পাশে তার একটি ওয়ার্কশপ ছিলো। সেখানে মাঝে মধ্যে আসামি রহিমা খাতুন যেতেন। তাদের পারিবারিক অবস্থা খারাপ ছিলো। আর্থিক অনটনের কারণে রহিমা খাতুনসহ অন্য আসামিরা প্রায়ই শহিদুল ইসলামের কাছে টাকা-পয়সা সাহায্য চাইতেন। শহিদুল ইসলাম তাদের সাহায্যও করতেন। ফলে আসামিদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য আসামিরা কৌশলে ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর শহিদুল ইসলামের সাথে রহিমা খাতুনের বিয়ে দিয়ে দেন। অথচ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে তার সাথে থাকেন। পরে নানা কৌশলে আসামিরা শহিদুল ইসলামকে দেড় লাখ টাকা খরচ করিয়ে তাদের একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করিয়ে নেন। পোস্টঅফিসে সঞ্চয় রাখার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এমনকী শহিদুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও দখল করে নেন আসামিরা। এরপর থেকে শহিদুল ইসলামের ওপর শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অন্য আসামিরা কারণে অকারণে হাত-পা তাকে মারধর করতেন। লাঠি দিয়েও মারধর করা হতো। এভাবে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে আসামিদের কৌশলের কারণে অধিকাংশ সময় গৃহবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করতেন শহিদুল ইসলাম। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সকল আসামি তাকে চড়, লাথি, কিল-ঘুষি মারেন। তাকে গালিগালাজ করেন। এরপর তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে তাকে ‘তালাক’ দেয়া হয়েছে মর্মে জানিয়ে নেন আসামি রহিমা খাতুন। পরে তাকে শূন্য হাতে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে শহিদুল ইসলাম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।





