সোহরাওয়ার্দীতে যন্ত্রপাতি ক্রয় : ৬৮ কোটি টাকার অডিট আপত্তি

লোকসমাজ ডেস্ক॥ অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ ক্রয়, চুক্তি সম্পাদন ছাড়া ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া, চাহিদা ছাড়া অতিরিক্ত এমএসআর সামগ্রী ক্রয়, পরিশোধিত বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট কর্তন না করা, পিপিআর-২০০৮ লঙ্ঘন করে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্ণয় না করা, বহির্ভূতভাবে কোটেশনের মাধ্যমে মালামাল ক্রয়, ডিসপোজিবল আইটেম ও কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বাবদ টাকা বিতরণের হিসাব না পাওয়া, স্টোর থেকে গ্রহণকৃত বিভিন্ন ওষুধ ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রারে খরচ ও এন্ট্রির প্রমাণ না পাওয়া সহ ২১ খাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারাত্মক আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে অডিটে। এ অবস্থায় এমএসআর ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে রাজস্ব খাতে ৬৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার অডিট আপত্তি জানানো হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ অনিয়ম হয় হাসপাতালটিতে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট ইউনিট এ আপত্তি জানায়। ৩১শে জানুয়ারি রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় হাসপাতালের পরিচালকের কাছে। চিঠিতে ২০টি খাতে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একটিকে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম বলে উল্লেখ করা হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে ২০টি অনিয়মের ব্রডশিট জবাব ও একটির অডিট আপত্তির জবাব অডিট অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব এম ডি কামাল হোসেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অডিট অধিদপ্তর থেকে যেসব খাতে অনিয়মের অডিট আপত্তি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো-ম্যানুফেকচারিং কোম্পানির নির্ধারিত এমআরপি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ ক্রয় করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা। বাজার মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে এমএসআর (এক্সরে ফিল্ম) ক্রয় করায় ৫০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পিপিআর/২০০৮ সালের বিধি লঙ্ঘন করে যখাসময়ে চুক্তি সম্পাদন ছাড়া ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া ও মালামাল সংগ্রহ করা। এতে অনিয়ম হয়েছে ২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বাজার দর অপেক্ষা অধিক মূল্যে এমএসআর যন্ত্রপাতি ক্রয় করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও ইডিসিএল-এর উৎপাদিত চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য কম হওয়া সত্ত্বেও উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় না করে সরবরাহকারীর কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ক্রয় করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৭১৩ টাকা। চাহিদা ছাড়া অতিরিক্ত এমএসআর সামগ্রী ক্রয়পূর্বক মজুত করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা। পরিশোধিত বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট কর্তন না করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৩ টাকা। দরপত্রে উল্লেখ অনুযায়ী এমএসআর ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করা সত্ত্বেও অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ১০০ টাকা। টিইসি’র সুপারিশ এবং কার্যাদেশ অমান্য করে মালামাল গ্রহণ করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ১৮৮ টাকা। পিপিআর-২০০৮ লঙ্ঘন করে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্ণয় না করার অনিয়মের কথাও তুলে ধরা হয় অডিট আপত্তিতে। এ ছাড়া এমএসআর যন্ত্রপাতি, ডিসপোজিবল আইটেম ও কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বাবদ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৭০ টাকার কোনো বিতরণ হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। নিম্নমানের কম্বল অধিক হারে ক্রয় করায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, টিইসি কর্র্তৃক নন-রেসপনসিভ দরদাতাকে রেসপনসিভ ঘোষণা করে ১ কোটি ৯২ হাজার ৫০০ টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করার অনিয়ম ধরা পড়েছে অডিটে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বহির্ভূত ১ কোটি ৫৪ লাখ ১,৮৮০ টাকার কার্যাদেশ দেয়ার অনিয়ম হয়েছে। এমএসআর দ্রব্য ক্রয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ২৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়ম হয়েছে। চাহিদার অতিরিক্ত মালামাল ক্রয় করায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ টাকা। আর্থিক ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে চুক্তি সম্পাদন করে অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। আর্থিক ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে কোটেশনের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করে অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। হাসপাতালের স্টোর থেকে গ্রহণকৃত বিভিন্ন ওষুধ ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রারে খরচ ও এন্ট্রির প্রমাণ না পাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৬৯ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। কার্য সম্পাদন জামানত বাবদ ২ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৩৭ টাকা আদায় না করে অনিয়মিতভাবে কার্যাদেশ প্রদান ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এমএসআর বিভাজন নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৮ টাকা।

ভাগ