২০২০ সালে রাশিয়ার এলএনজি উৎপাদনে উল্লম্ফন

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন গত বছর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা সব মিলিয়ে পরিমাণের দিক থেকে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৫ টন। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা রোসস্ট্যাটের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর অয়েলপ্রাইস ডটকম।
রোসস্ট্যাট প্রতিবেদনে জানায়, কেবল ডিসেম্বরই রাশিয়ার উৎপাদকরা ২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন টন গ্যাস উৎপাদন করতে পেরেছেন, যা কিনা বছরে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং নভেম্বর থেকে বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
এলএনজির বাজারে রাশিয়া তুলনামূলক নতুন মুখ। কিন্তু তার পরও দ্রুততম সময়ের মাঝে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী আলেকসান্দার নোভাক বলেন, মধ্যবর্তী মেয়াদে তারা ২৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ারের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। এজন্য অবশ্য সরকার চাইলে দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশালাকার মজুদকে ধন্যবাদ জানাতে পারে। খুব দ্রুততম সময়ের মাঝে দেশটি বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারী দেশে পরিণত হয়েছে। তাদের ওপরে আছে কেবল কাতার, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার বেশির ভাগ এলএনজি আসে ইয়ামাল এলএনজি প্রজেক্ট থেকে, যার পরিচালনায় আছে নোভাটেক। পাশাপাশি বেশির ভাগ মালিকানাও তাদের। রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান নোভাটেক। এর আগে গত বছর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ভরসা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে এলএনজি উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয় রুশ নোভাটেক। নোভাটেকের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি এলএনজির বার্ষিক উৎপাদন সর্বোচ্চ সাত কোটি টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রুশ নোভাটেকের আওতায় জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বাড়তে পারে।
তবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও অন্য রফতানিকারকদের মতো রাশিয়াও চাহিদার স্বল্পতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষত নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে তারা, যেখানে ২০২০ সালে আগের বছরের তুলনায় এলএনজি রফতানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। কিন্তু নতুন বছরে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের বিস্তৃত বিতরণের কারণে এ সময়ে এসে চাহিদা নতুন করে আবার বাড়তে শুরু করেছে। নোভাটেক ও গ্যাজপ্রম সামনের দিনগুলোতে উচ্চতর চালানের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। বিশেষত এশিয়া অঞ্চলে চাহিদার ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যেখানে জ্বালানির চাহিদা দ্রুতগতিতে ফিরে আসছে এবং ক্রমশ বাড়তেও শুরু করেছে। বিশেষত ২০৬০ সালের মধ্যে চীনের শূন্য কার্বন নিঃসরণ প্রকল্প হাতে নেয়ার পরও এমন সম্ভাবনা দেখা গেছে। এমনকি ৮০-৮৫ শতাংশ এলএনজি ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নোভাটেকের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মার্ক গেইটভে দ্রুত এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথাও বলেছেন।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি বাজারে ১৫০ মিলিয়ন টন ঘাটতি দেখতে পাচ্ছেন। মূলত নতুন সক্ষমতায় চূড়ান্ত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়া কিংবা বিলম্ব হওয়ার কারণে এটি হতে পারে। এমনকি অনেকগুলো দেশ নিজেদের জ্বালানি খাতকে কার্বনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও এটি ঘটতে পারে বলে আশা করছেন।
তার পরও অনেক বিশেষজ্ঞ আশা করছেন, জ্বালানি খাতের পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস তার অবস্থান হারা েত পারে। কিন্তু এ ভাবনাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন গেইটভে।বাস্তবতা হচ্ছে এলএনজির চাহিদা বৈশ্বিক পুনর্বিকিরণযোগ্য শক্তির সক্ষমতার সঙ্গে একইভাবে বাড়বে, এজন্য মূল ভূমিকা রাখতে পারে কয়লা থেকে গ্যাসে পরিবর্তিত হওয়া এবং অনেক বেশি পরিমাণে হাইড্রোজেন উৎপাদন।