স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ আউট সোর্সিং কাজের কথা বলে বায়োজিদ ওরফে তোফায়েল নামে এক প্রতারক ঝিনাইদহ অঞ্চলের যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বায়েজিদ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার মধ্য মিতনী গ্রামের তোফাজ্জেল খন্দকারের ছেলে। ঝিনাইদহের তিন তরুণ-তরুণীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে প্রতারক বায়োজিদ ওরফে তোফায়েলকে আটকের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মতিয়ার রহমান নামে এক যুবকের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বায়েজিদ ওরফে তোফায়েল আউট সোর্সিং কাজের নাম করে ঝিনাইদহ ও আশপাশ এলাকা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছেন। ঝিনাইদহ সদর থানায় দাখিল করা একটি অভিযোগের মাধ্যমে জানা গেছে, বেকারত্বের কারণে অনলাইনে কাজের খোঁজ করছিলেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার রিশখালী ইউনিয়নের গোবরা পাড়া গ্রামের এলেম মন্ডলের ছেলে মতিয়ার রহমান। মতিয়ার রহমানের সম্পর্কে ভাগ্নে সাদিকুর রহমানের সাথে আউট সোর্সিং বিষয়ে কথা হলে তিনি বায়েজিদ ওরফে তোফায়েল নামের একজনের সাথে পরিচয় করে দেন। বায়েজিদ ইজি ক্যাশ নামের একটি অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইনকামের কথা বলে মতিয়ার রহমানকে। বায়েজিদ মতিয়ারকে বলে ৪ হাজার ৪’শ টাকা দিয়ে আইডি কিনে কাজ শুরু করলে প্রতিমাসে ৩ হাজার ৯’শ টাকা করে আয় হবে। এছাড়া কেউ যদি তার রেফারেন্সে আইডি খোলে তবে আইডি প্রতি ৬’শ টাকা করে রেফারেন্স বোনাস পাবে। এভাবে এমএলএম ভিত্তিক টিম করে কাজের পরামর্শ দেন সিরাজগঞ্জের সোহেল ও সাগর নামের আরও দুই যুবক। তারা মতিয়ারকে এই কাজে আরো প্রলুব্ধ করেন। মতিয়ার রহমান চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু ও ঝিনাইদহ সদরের বিভিন্ন স্থানে মার্কেটিংয়ে নেমে ৬/৭ মাসের মধ্যে দেড় থেকে ২ হাজার সদস্য যোগাড় করেন। যারা প্রত্যেকেই অনলাইনে কাজের সন্ধান করছিলেন। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জনের চিন্তা করে আগ্রহী যুবক-যুবতীরা মতিয়ার রহমানের কাছ থেকে ইজি ক্যাশ সাইটে নিজ নিজ নামে আইডি কিনে কাজ করতে থাকেন। ২০২০ সালের ২৮ আগস্ট ইজি ক্যাশ ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেন প্রতারক বায়জিদ। ইজি ক্যাশ ওয়েবসাইটে ভিপিএনের মাধ্যমে আমেরিকান আইপি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভুয়া একটি ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হতো। সাইট বন্ধ করে দিলে আইডি কিনে কাজ করতে চাওয়া ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীরা তাদের ঊর্ধ্বতন টিম লিডারদের কাছে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। চাপের এক পর্যায়ে বায়েজিদ তাদের জানান নতুন একটি সাইট করা হচ্ছে, সার্ভে করে উপার্জন করতে হবে। ইজি ক্যাশ সাইটের আইডিতে যার যত ব্যালান্স ছিল এই সাইটে তা সমন্বয় করা হবে। সেভার জোন. ওআরজি বর্তমানে এই ওয়েবসাইটে টাকা সমন্বয় করার কথা থাকলেও এই তরুণ-তরুণীদের ফোন রিসিভ করছেন না প্রতারক বায়েজিদ ওরফে তোফায়েল। সেভার জোন.ওআরজি নামের এই ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ঠিকানা দেওয়া আছে কানাডার একটি জায়গার। কিন্তু বাস্তবে এই ওয়েবসাইটি নিয়ন্ত্রণ করেন বায়জিদ। এই সাইটে কাজের অফার দিয়েও বায়োজিদ নতুন করে ধান্ধা শুরু করেছেন বলে পুলিশ মনে করছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ‘এই চক্রটি বহু যুবকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে সিআইডির মাধ্যমে কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।’





