দুর্নীতির সূচকে আবারো অবনতি

0

টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অনেক বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, এখন আর দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্সের কথাও জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু দুর্নীতির চিত্র বদলেছে কি? গত বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২০ অনুযায়ী বাংলাদেশের দুই ধাপ অবনতি হয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের ক্রম তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১২তম। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম এবং ২০১৮ সালে ১৩তম। তবে ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ এবারও ২৬ পেয়েছে, আগের দুই বছরও স্কোর একই ছিল। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং দণি এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে। দণি এশিয়ায় একমাত্র আফগানিস্তান রয়েছে বাংলাদেশের নিচে।
এটা ঠিক গত দুই বছরে কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান খানিকটা জোরদার হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংকিং খাতের বড় বড় ব্যক্তি এবং বেসরকারি খাতের অনেক দুর্নীতিবাজকে এ সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সবচেয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল যখন মতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত অনেক হোমরাচোমরা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এখনো চলমান আছে। তার পরও দুর্নীতির ব্যাপকতা কমছে না কেন? বিশেষজ্ঞদের ধারণা, করোনার সময় স্বাস্থ্য খাতসহ কয়েকটি খাতে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির ব্যাপকতাই বর্তমান অবনমনের জন্য দায়ী। এ ছাড়া দুর্নীতির মূল বা শিকড়-বাকড় সমাজের যতটা গভীরে প্রোথিত হয়েছে, তাকে নির্মূল করতে হলে অনেক শক্তিশালী ঝাঁকুনি দিতে হবে। সেটি করা যাচ্ছে না। তার কারণ, সরকারের সদিচ্ছা বা জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সমতা প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে। দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। স্বচ্ছতা যাচাই বা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এ ছাড়া মতার অপব্যবহার, বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা, মতপ্রকাশ ও জবাবদিহির অভাবকেও অনেকে দুর্নীতি না কমার কারণ মনে করেন।
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স শোনালেও যেতে পারেনি। বরং একটা জায়গায় এসে যেন দুর্নীতিবিরোধী সব প্রচেষ্টা যেন থেমে গেছে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিটসহ আরো যেসব সংস্থা দুর্নীতিরোধে কাজ করে তাদের কাজের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে সবার আগে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তি দৃশ্যমান করতে হবে।