আন্তর্জাতিক সংবাদ

0

ক্যালিফোর্নিয়ায় গান্ধীর ভাস্কর্য ভাঙচুর
লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেভিস শহরে একটি পার্কে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত ২৮ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার ডেভিস শহরের সেন্ট্রাল পার্কে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর করে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। ২০১৬ সালে ওই মূর্তি ডেভিস শহরকে উপহার দিয়েছিল ভারত সরকার।’ বিষয়টি মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এনে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য আবেদন জানিয়েছে ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘স্যান ফ্রান্সিসকোয় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল বিষয়টি পৃথক ভাবে ডেভিস প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সামনে তুলে ধরেছে এবং ঘটনার অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গান্ধীমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন ডেভিস শহরের মেয়র।’ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সিটি অব ডেভিসের পার্কে থাকা ৬ ফুট উচ্চতা ও ২৯৪ কেজি ওজনের ব্রোঞ্জের ওই ভাস্কর্যটির গোড়ালি থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাস্কর্যের মাথার একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি পার্কের গেট খুলে কর্মীরা দেখেন গান্ধীর ভাস্কর্য ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। খবরটি জানাজানি হতেই ুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রবাসী ভারতীয়রা। এর পরিপ্রেেিত নিউইয়র্কের মেয়র জানিয়েছেন, খুব শিগগির পার্কে আবারও গান্ধীর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। মেয়র কাউন্সিলের সদস্য লুকাস ফেরিচ সাংবাদিকদের জানান, আপাতত ওই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি ফের তৈরি করা করা হবে। প্রায় ৪ বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি অব ডেভিস পার্ককে ওই ভাস্কর্য উপহার দেয় ভারত। সেই সময় পার্কে ভাস্কর্য বসানোর বিরোধিতা করে বিােভে করেছিলেন কিছু মানুষ। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংখ্যালঘু সংগঠনও ওই ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে। পরে ভোটাভুটি করে ওই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।

কারচুপি ‘সম্ভব’, ভারতে ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভারতে ফের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেইসঙ্গে দাবি উঠেছে আসন্ন নির্বাচনে শতভাগ ভিভিপ্যাট পরীারও। সংবাদ প্রতিদিন জানায়, এতদিন বিরোধীরা এই দাবি জানিয়েছে। এবার একই অভিযোগ শোনা গেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আমলাদের মুখেও। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও বিভিন্ন েেত্র বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ‘দ্য সিটিজেনস কমিশন অন ইলেকশন’ নামে একটি সংগঠনের তরফে শনিবার দাবি করা হয়, ইভিএমে কারচুপি সম্ভব। সংগঠনটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত আমলা তথা প্রসার ভারতীর সাবেক সিইও জহর সরকার। ভার্চুয়ালি যোগ দেন সংগঠনের সভাপতি তথা সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মদন লোকুর, সহ-সভাপতি সাবেক আমলা ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত আমলা সুন্দর বুররা ও এমজি দেবসহায়ম। জহর সরকার বলেন, ‘ইভিএম ফুলপ্রুফ নয়। এতে কারচুপি সম্ভব। তাই ইভিএমের পাশাপাশি ১০০ ভাগ ভিভিপ্যাট পরীা করা উচিত।’ ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে একটি সমীা চালিয়েছে ‘দ্য সিটিজেনস কমিশন অন ইলেকশন’। দিল্লি আইআইটি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. সঞ্জীব প্রসাদের তত্ত্বাবধানে এই সমীা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক নিয়মনীতিগুলোর আবশ্যিক শর্ত হলো ভোটদানের প্রক্রিয়াটি যেন ভোটদাতার কাছে সহজবোধ্য হয়। ভোটার যেন নিজের ভোট যাচাই করে নিতে পারেন। প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও যে সেেেত্র সামান্য ভুলও যেন না থেকে যায়। বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোও নির্বাচনের সময় ইভিএম ব্যবহার না করাই উচিত বলে মনে করে। এই সমীায় উঠে এসেছে, সাইড চ্যানেল থেকে আক্রমণ এলে অর্থাৎ তড়িৎচুম্বক ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রকৌশলকে হ্যাক করা হলে, তা ঠেকানোর ব্যবস্থা কমিশন করেনি। এছাড়া ইভিএমের মধ্যে যে প্রসেসর চিপটি রয়েছে, সেটি কেবল একবারই প্রোগ্রাম করার উপযুক্ত কিনা তাও সন্দেহজনক। এসব কারণেই ইভিএম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ‘দ্য সিটিজেনস কমিশন অন ইলেকশন’। পাশাপাশি শতভাগ ভিভিপ্যাট স্লিপ গণনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সংগঠনের বক্তব্য, সময়ের কারণ দেখিয়ে ভিভিপ্যাট স্লিপ গুনতে চায় না নির্বাচন কমিশন। অথচ আগে যখন ব্যালট ব্যবস্থা চালু ছিল তখন কম সময়েই তা গণনার কাজ করা সম্ভব হতো। ফলে কমিশনের যুক্তি খাটে না।

অভিশংসন বিচার শুরুর আগেই ট্রাম্পের ৫ আইনজীবীর পদত্যাগ
লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন আইনজীবী পদত্যাগ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে এ কথা বলা হয়েছে। সিনেটে ট্রাম্পের বিচার শুরুর মাত্র অল্প সময় আগে তার সঙ্গে মতভিন্নতার জেরে ওই পাঁচজন আইনজীবী টিম থেকে বেরিয়ে যান। সিএনএন অজ্ঞাত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, এই পাঁচজনের মধ্যে দুজন ট্রাম্পের আইনজীবী দলের নেতৃস্থানীয়। ট্রাম্পের আইনি কৌশলের সঙ্গে তারা একমত হতে পারেননি। সূত্র আরও বলছে, ট্রাম্প চাচ্ছেন মতা ছাড়ার পরও একজন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার বৈধতা নিয়ে কথা বলার চেয়ে নির্বাচনে জালিয়াতির তার ভিত্তিহীন অভিযোগকেই আইনজীবীরা গুরুত্ব দিক। এদিকে এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা জাসন মিলার টুইট করে বলেছেন, আমরা অনেক কাজ করেছি। কিন্তু আমাদের আইনজীবী দল নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি, শিগগিরই এটি হবে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ঐতিহাসিক দ্বিতীয় দফায় সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করে। গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এই অভিশংসনের পদপে নেওয়া হয়।