করোনা মহামারীতে বৈশ্বিক চাহিদায় ৯ শতাংশ পতন

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একের পর এক লকডাউনে চলে যায়। মানুষ ঘরবন্দি থাকায় কার্যত স্থবির হয়ে আসে পরিবহন খাত। কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে শিল্প, পর্যটনসহ নানা খাতের। এমন পরিস্থিতিতে কমতে শুরু করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা। বছর শেষে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বলছে, করোনা মহামারী ও লকডাউনের কারণে গত বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ কমেছে। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম ও রয়টার্স।
ইআইএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ী বছরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে দৈনিক গড়ে ৯ কোটি ২২ লাখ ব্যারেলে। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় ৯ শতাংশ পতন দেখা গেছে। ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার হিসাব রাখছে ইআইএ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এর পর থেকে ২০২০ সালেই জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় পতনের পেছনে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীকে চিহ্নিত করেছে ইআইএ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারির প্রথমে চীনে লকডাউন শুরু হয়। ওই সময় দেশটিতে নববর্ষের মৌসুম চলছিল। লকডাউনে উৎসব বাতিল হয়। মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি গত বছরের শুরুর দিকে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় রেকর্ড পতন ঘটায়।
চীনে শুরু হলেও করোনা সংক্রমণ দ্রুত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ঘোষণা করা হয় বৈশ্বিক মহামারী। অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ কোরিয়া—দেশে দেশে লকডাউন শুরু হলে বছরের উল্লেখযোগ্য একটা সময় বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ঘরবন্দি জীবন কাটায়। গতি হারায় আমদানি-রফতানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামগ্রিক অর্থনীতি। মূলত এর জের ধরে গত বছর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় পতন দেখা দেয়।
বিদায়ী বছরে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পতনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয় বাজারে। ২০২০ সালের শেষভাগের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন বজায় ছিল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেল শূন্য ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে গত বছর। অর্থাৎ ওই সময় জ্বালানি তেল কিনলে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ তো নেয়নি, উল্টো ক্রেতাদের পরিবহন ব্যয় নিজেরাই বহন করেছে। ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। বছরের শেষভাবে এসে করোনা ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হলে জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। যদিও সেটা আশানুরূপ ছিল না।
তবে চলতি বছর জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা মন্দা ভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ইআইএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক গড়ে ৯ কোটি ৭৮ লাখ ব্যারেলে, যা আগের বছরের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৫৬ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ বেশি। যদিও ২০১৯ সালে মহামারী-পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় যা প্রায় ৩ শতাংশ কম।
ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় চাহিদা ১৪ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। অন্যদিকে ২০২২ সালে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় চাহিদা চলতি বছরের তুলনায় আরো ৩৩ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক গড় চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক ৯ কোটি ৫৯ লাখ ব্যারেলে। ২০১৯ সালে মহামারী-পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় যা দৈনিক গড়ে ৫০ লাখ ব্যারেল কম।

ভাগ