স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পল্লীতে বাইসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুকুল হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে দশটার দিকে উপজেলার সিরালি-মদনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুকুল হোসেন ওই গ্রামের আমিন মোড়লের ছেলে। নিহতের পিতা বাদি হয়ে ছয়জনের নাম করে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করেছে। উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী জানান, কয়েকদিন আগে সিরালি-মদনপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বাইসাইকেল হারিয়ে যায়। পরে পাশের সাড়াপোল বাজারে মোন্তাজের মুদি দোকানে সেই সাইকেলটি পাওয়া যায়। আর এ ঘটনায় মোন্তাজকে দোষারোপ করে মুকুল তাকে বেদম মারপিট করে। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মোন্তাজের বাড়ির পাশে নিজের মৎস্য খামারে যায় মুকুল। সেখানে মোন্তাজের ছেলে টিপু সুলতানের সাথে প্রথমে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে টিপুর মা এবং চাচাতভাই দিপু সেখানে হাজির হলে মুকুলের সাথে তাদের আবারও বাকবিতন্ডাসহ মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তারা মুকুলকে মারপিটের পর কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে শনিবার সকালে থানায় মোন্তাজ আলী ও তার ছেলে টিপু সুলতানসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ সহ একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে আটক করে। আটকরা হলো মোন্তাজ আলীর ছেলে টিপু সুলতান, টিপু সুলতানের দুই শ্যালক আসাদুল ইসলাম ও সাজেদুল ইসলাম, প্রতিবেশী ইনতাজ আলীর দুই ছেলে দিপু হোসেন ও রায়হান হোসেন। মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, নিহত মুকুল হোসেন ধীর্ঘদিন মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিল। তার নামে থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে ৮টি মামলা রয়েছে। তবে নিহতের স্ত্রী লায়লা খাতুন জানান, তার স্বামী আগে মাদকের কারবার করলেও দুই বছর আগে ছেড়ে দিয়ে ঘেরের ব্যবসা শুরু করেন। এছাড়াও মাঝেমধ্যে যশোর শহরে রড মিস্ত্রির কাজ করতেন।





