বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচনে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ চান অপরাজিতারা

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ অপরাজিতা সদস্য লীলা রানী দাস বাগেরহাটে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওয়ার্ড পর্যায়ে নারীদের সরাসারি অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সোমবার বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নারী উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওয়ার্ড পর্যায়ে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ বিষয়ে অপরাজিতা এবং স্থ্নাীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসি সভায় অপরাজিতা সদস্য লীলা রানী দাস এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
লীলা রানী দাস তার ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা আলোকপাত করে বলেন, ‘আমি একজন নারী। আমি স্বামীর পরিবারে নির্যাতিত ও নিপীড়িত। ১৯৯১ সালে আমার স্বামী মারা যান। তখন আমার একটা সন্তান চার বছর এবং আরেকটা ছিল তিন মাস বয়সী। আমি শ^শুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত, শ^শুরের ৪০ বিঘা সম্পত্তি ছিল তার কে নো অংশ আমি পাইনি। আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসি। আমি নতুন করে আবার বিয়ে না করে আমার সন্তান দুটিকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। তারা এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। আমাদের আশপাশে অনেক নারী আছেন যারা নীরবে নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে। এখানে উপস্থিত সব নারীকে কথা বলতে দেন দেখবেন সবাই তাদের পরিবার নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরবেন। বর্তমানে নারীদের সম্মান অনেকটা বেড়েছে এটা স্বীকার করতে হবে। আমি যা সহ্য করেছি তা এখনকার মেয়েরা তা সহ্য করেছে না। আমরা চাই সমাজে, সংসারে নারীদের সবাই সম্মান করুক। আমরা সফল, আমরা জেগেছি, এখন আমাদের সামনে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। আমাদের সাহস আছে, তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন।’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক বলেন, ‘আমাদের মন মানসিকতা, ধ্যান ধারণার পরিবর্তন করতে হবে। নারীদের বিভিন্ন জায়গায় যে চাহিদাগুলো রয়েছে তার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। বর্তমানে নারী আসনের ক্ষেত্রে যে সংরক্ষিত কথাটি রয়েছে তা এক সময় উঠে যাবে। সংরক্ষিত বিষয়টি থাকবে না। নারীরা তাদের যোগ্যতায় সব জায়গায় কাজ করবেন বলে আমি বিশ^াস করি। অপরাজিতা এই নারীদের সবাইকে আমাদের সম্মান দিতে শিখতে হবে।’ নারীদের যেসব অধিকার রয়েছে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের যে সহযোগিতা দরকার তা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। সভায় অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রিজাউল করিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ পরিচালক হাসনা হেনা প্রমুখ।

ভাগ