মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় নাব্য হ্রাস ২টি বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় নাব্য সংকট তৈরি হয়েছে। একারণে বন্দরে আসা বিভিন্ন জাহাজকে নানা দুর্ঘটনায় পতিত হতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে বন্দরের জেটিতে পর্তুগাল ও ভারতের দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্দর জেটিতে প্যানাডার (রাবার জাতীয় প্রটেকশন) না থাকায় আঘাত ও ঘষার কারণে মেশিনারি বোঝাই পর্তুগাল পতাকাবাহী ইউ এইচ এল ফোকাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে বিদেশি জাহাজটি তিগ্রস্থ হলেও নাবিকদের কোন তি হয়নি। এ ব্যপারে ইউ এইচ এল ফোকাস জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দরের চেয়ারম্যান ও হারবার মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে নাব্যতা সংকটের কারণে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি তুহিনা একই এলাকায় ডুবোচরে আটকে গেলে সেটি কাত হয়ে যায়। সেময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত রা পায় জাহাজটি। গত বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। এই জাহাজ কর্তৃপও বন্দরে অভিযোগ করেন ।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি স্বীকার করে মোংলা বন্দর কর্তৃপরে হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, এম ভি তুহিনা জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ দিয়েছেন তার জাহাজের তলদেশে মাটিতে আটকে যাচ্ছে ভাটার সময়। কিন্তু গত এক মাসে আরও যে জাহাজগুলো ছিল তারা কোন অভিযোগ করেননি। অন্য জাহাজের তিগ্রস্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্যানাডার লাগানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ অবস্থায় যতগুলো জাহাজ আসবে তাদের একটু সমস্যা হবে বলেও জানান তিনি। এম ভি তুহিনা জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আল-সাফার ম্যানেজার সাধন কুমার বলেন, বন্দর জেটির সম্মুখভাগে সাত মিটার গভীরতা রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপরে ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু জাহাজটি সেখানে রাখার পর দেখা গেছে চার থেকে সাড়ে চার মিটার গভীরতা রয়েছে। যার ফলে ভাটার সময় জাহাজটি ডুবোচরে আটকে কাত যায়। এ কারণে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দর কর্তৃপরে কাছে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের মেশিনারি নিয়ে আসা পর্তুগাল পতাকাবাহী ইউ এইচ এল ফোকাস গত বৃহস্পতিবার ৯ নম্বর জেটিতে ভেড়ে। ওই সময় জেটির বাইরের অংশে প্যানাডার না থাকায় আঘাত ও ঘষার কারণে জাহাজটির বাইরের অংশে তিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট অলসিসের প্রতিনিধি সাখওয়াত হোসেন মিলন বলেন, য়তি উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপরে কাছে জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ করেছেন। একই সাথে এই বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিলে বন্দরের ৭ ও ৯ নম্বর জেটি এলাকায় ড্রেজিং করা হয়েছে। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ড্রেজিং এলাকা কিভাবে ভরাট হয়ে যায় এবং নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়ে এ নিয়ে নানা অভিযোগও রয়েছে বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে। গত বছরের জুলাই মাসে ৫ নম্বর জেটি এলাকায় ড্রেজিং শেষে সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগ হারবার বিভাগকে জেটি এলাকার আর কোথাও ড্রেজিয়ের প্রয়োজনীতা রয়েছে কিনা জানতে চেয়ে চিঠি দেন। সেই চিঠির জবাবে হারবার বিভাগ ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীতা নেই বলে উত্তর দেন। বন্দরের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগ জেটি এলাকায় ড্রেজিংয়ের প্র্রয়োজনীয়তা জানতে চাইলে হারবার বিভাগ কেন প্রয়োজন নেই জানিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখরউদ্দিন বলেন, তখন প্রয়োজন ছিল না কিন্তুগত দেড় মাস আগে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগকে। সে অনুযায়ী শিগগিরই জেটি এলাকায় নতুন করে ড্রেজিংয়ে কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।