মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার মানুষ বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে অতিষ্ঠি হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতি দিনই পৌর সদরসহ উপজেলার কোন না কোন গ্রামের মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। গত বছরে কুকুরের কামড়ে আহতের সংখ্যা দেড় শাতধিক আর চলতি বছরের গত ২৪ দিনে আক্রান্ত ১৪ জন। এমন পরিস্থিতিতে বেওয়ারিশ কুকুরের নিধনের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীসহ অনেকেই। চৌগাছা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে নারী ও শিশুসহ ২০২০ সালে পৌরসভা হতে ১৩৬ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধ আছেন। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে পৌরসভা থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২২ রোগী। অনুরুপ ভাবে ওই সালের ফের্রুয়ারিতে আক্রমণের শিকার ১৬ জন, মার্চ মাসে ১১ জন, মে মাসে ১, জুনে ৭, জুলাই মাসে ৯, আগস্ট মাসে ৮, সেপ্টেম্বর মাসে ১২, অক্টোবরে ৯, নভেম্বর মাসে ২৬ আর ডিসেম্বর মাসে ১৫ জন ব্যক্তি কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন।
চলতি বছরের ২৪ দিনে পৌরসদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে শিশু ও নারীসহ ১৪ জন কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। আক্রান্তরা হলেন-উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের ফাহিম হোসেন (২৫), গয়ড়া গ্রামের আবু সাঈদ (৮), চাঁদপাড়া গ্রামের রহিমা বেগম (৪৫), একই গ্রামের নুর ইসলাম (৫৬), রেজওয়ান হোসেন (১৪), সামছুন্নাহার (৫০), মুসলিমা খাতুন (২৫), পৌর এলাকার নিরিবিলিপাড়ার শিশু এশা খাতুন (৩), বকশিপুর গ্রামের মাহাবুর রহমান (৫০), পেটভরা গ্রামের তৈমুর রহমান (৬০), আড়পাড়া গ্রামের বাঁধন কুমার (১০), হাকিমপুর গ্রামের সুমন হোসেন (১২), জামিরা গ্রামের রাশেদ আলী (৩৫) ও রুস্তমপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান (৫৫)। আহতরা সকলেই পৌরসভা হতে কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন গ্রহন করেছেন। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, কুকুর যে শুধু মানুষকে আক্রমণ করছে এমনটি না। দলবদ্ধ কুকুর গ্রামের পর গ্রামে বাড়িতে পালন করা গরু ছাগল হাঁস মুরগীর উপরও আক্রমণ করছে। তারা অনেক স্থানে হাঁস মুরগীকে আক্রমণ করে টেনে ছিঁড়ে তা খেয়ে ফেলছে। পৌর এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, কুকুরের অত্যাচারে রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। কুকুরের কারণে গৃহপালিত পশু পাখি পালন করা কষ্ট হয়ে উঠেছে। কুকুর দলবদ্ধ ভাবে হামলা করছে পশু পাখির উপর। কুকুর নিধন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করছেন। পৌরসভার স্বাস্থ্য সহকারী আবু সাঈদ মো. রাজু জানান, প্রতি বছরই কুকুরের কামড়ের রোগী বেড়েই চলেছে। আমরা পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি। মাঝে মাঝে রোগীর চাপে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। পৌর সচিব গাজী আবুল কাশেম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। নির্দেশ পেলে আমরা পুনরায় কুকুর নিধন কার্যক্রম শুরু করবো। পারিবারের সকলকে এই সময়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচলের পরামর্শ দেন তিনি।




