প্রধান মেডিকেল অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ: হল বন্ধের অজুহাতে ইবিতে মিলছে না চিকিৎসা সেবা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইমানুল সোহান, ইবি ॥ করোনাভাইরাসের সংকটকালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ইসলামের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসুস্থতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে করোনার অযুহাতে ওষুধ দেয়না কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র রোগের বিস্তারিত শুনে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে শিঅর্থীদের মাঝে ােভের সঞ্চার হযেছে। এদিকে অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসায় শিার্থীকে অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসা না দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসারকে শনিবারের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, আবাসিক হল বন্ধ রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরছে। তবে আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মেস ও বাসায় গাদাগাদি করে অবস্থান করছে । এতে অনেক শিক্ষার্থী জ্বরসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে সেবা নিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে ওষুধ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকলে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ওষুধ সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে মেডিকেল সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করেন। বাকী সময়টুকু ডাক্তারশূন্য থেকে যায় মেডিকেল। ফলে সন্ধ্যা হওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায় মেডিকেল সেন্টারের গেট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাস সূত্রে, গত ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইফুল ইসলাম নামের এক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী প্রচন্ড পেট ব্যাথা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে যায়। সেখানে গিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের না পেয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা সেবা চান। তখন দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, ‘কোভিডের কারণে শিক্ষার্থীদের কোন সেবা চালু নেই।’ ফলে সেবা না পেয়ে ওই শিক্ষার্থী মেসে ফিরে যায়। পরে রাত ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী আরও অসুস্থ হয়ে গেলে তার সহপাঠীরা তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা চায়। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার অযুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়নি বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এমতবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা ৯৯৯ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চায়। আধাঘন্টা অপেক্ষা করার পর ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী হরিনারায়নপুর থেকে ৯৯৯’র একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই শিক্ষার্থীকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা ক্যাম্পাস গেটে জড় হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে আমরা যদি কাঙ্খিত সেবা না পাই তাহলে কে পাবে? অচিরেই মেডিকেল সেন্টারে আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চাই। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সেবা ঠিকই চালু রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেবা চালু নেই। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় বিষয়। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে ঠিকই কিন্তু সেবার ব্যাবস্থা করেনি। প্রয়োজন ছিল করোনাকালে আগে সেবা তারপর পরীক্ষার। আমার সাথে যে বিষয়টি ঘটেছে তা অবর্ণনীয়।’ এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে আমরা প্রশাসনের সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসেছিলাম। তখন পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা করেই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল প্রশাসন। আমি কিছুদিন অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে পারিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার ফোন বন্ধ ছিল না। অনেক রাত হওয়ায় আমি ঘুমিয়ে গেছিলাম। তাদের সাথে ১২টা পর্যন্ত কথা হয়েছিল। এ বিষয়ে মেডিকের সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে আমি নভেম্বর মাসে চব্বিশ ঘন্টা ডাক্তার রাখার নিদের্শনা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গাড়ি সার্ভিস না দেওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। আর হল বন্ধ থাকলে ওষুধ সেবা দেওয়া হয় না। শুধু ইমারজেন্সি রোগীদের ওষুধ সেবা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীরা সেবা পাবে না এটা মানা যায় না। শিক্ষার্থীদের সেবার জন্যই এই মেডিকেল। শিক্ষার্থীরা সেবা না পেলে এই মেডিকেল রেখে লাভ কী? এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসারকে শনিবারের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমি আগামীকাল ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি দেখবো।

ভাগ