স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে নাঈম (২১) নামে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সাথে গোলাযোগ করে নিজ কপালে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের একটি সংরক্ষিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নাঈম খুলনার রূপসা থানার জয়পুর এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি থাইগ্লাসের মিস্ত্রির কাজ করতেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই সেকেন্দার আবু জাফর জানান, সংরক্ষিত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের জানালায় থাইগ্লাস বসানোর কাজ চলছে। সেখানে নাঈমসহ কয়েকজন কাজ করেন। নাঈমের সঙ্গীদেরও বাড়ি খুলনায়। কাজের সুবিধার্থে ওই ভবনের একটি কক্ষে নাঈমসহ তার সঙ্গী সিরাজুল থাকেন। পাশের আরেকটি কক্ষে আরও ৩ সঙ্গী থাকেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে কথা বলেন নাঈম। তার স্ত্রী থাকেন খুলনাতে পিত্রালয়ে। জান্নাতুল ফেরদৌস অন্যত্র বিয়ের একটি অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে নাঈম নিষেধ করায় এনিয়ে দুজনের মধ্যে গোলাযোগ হয়। মেসেঞ্জারে দীর্ঘ ২ ঘন্টা ধরে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে একে অন্যকে বার্তা পাঠিয়ে আক্রমণ করলেও নাঈমের পাঠানো বার্তায় বেশিরভাগ ছিলো অশ্লীল গালিগালাজ। জান্নাতুল ফেরদৌসের পাঠানো কয়েকটি বার্তায় ‘তুই মর’ এমন কথাও লেখা ছিলো।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, রাত ৭টার দিকে নাঈমের কক্ষে বসে অপর ৪ সঙ্গী তাস খেলা করছিলেন। এক পর্যায়ে সঙ্গীরা লক্ষ্য করেন, ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে নিজ কপালে জোরে আঘাত করছেন নাঈম। এ সময় তারা তাকে বাধা দিলে তিনি তাদেরকে তার কক্ষ থেকে চলে যেতে বলেন। তিনি তাদেরকে একথাও বলেন যে, ‘আমি একটু একা একা থাকতে চাই’। তার সঙ্গীরা একথা শুনে পাশের কক্ষে গিয়ে তাস খেলা করতে থাকেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সঙ্গী সিরাজুল ইসলাম ঘুমানোর জন্য ওই কক্ষে ঢুকে নাঈমকে নিজ বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে তিনি পাশের কক্ষে গিয়ে অন্য সঙ্গীদের বিষয়টি জানালে তারা দ্রুত ছুটে আসেন। পরে তারা নাঈমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ৯টা ২০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সিরাজুলসহ নাঈমের সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য মিলেছে বলে এসআই সেকেন্দার আবু জাফর জানান। তাছাড়া নাঈমের মোবাইল ফোন জব্দ করে মেসেঞ্জারে স্ত্রীর সাথে দীর্ঘ ২ ঘন্টা গোলাযোগের বার্তাও উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে আত্মহত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়িও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, চিকিৎসকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হাতুড়ি দিয়ে কপালে জোরে আঘাত করার কারণে ভেতরে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে নাঈমের মা ফাতেমা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে দুঃসংবাদ পেয়ে তারা যশোরে আসেন। এখানে আসার পর জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছেন। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। তবে তার ছেলের কপালে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মাসহ স্বজনদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। তারাও নাঈমের সঙ্গীদের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা লাশ খুলনায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।





