কর্মক্ষেত্রে কর্তব্যের পাশে পতিত জমিতে সবজি চাষে সফল পুলিশ সদস্য

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট ॥ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশের কনস্টেবল ভক্ত দাস মন্ডল। করোনাকালীন সময়ে তার নিজ হাতে করা সবজি েেত উৎপাদন হচ্ছে লাউ, বেগুন, বিটকপি, আলু, শিম, গাজর, কাঁচামরিচসহ নানা প্রকার সবজি। এই বিষমুক্ত সবজি মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ব্যারাকের অর্ধশত পুলিশ সদস্যের চাহিদা মেটায়। বাগেরহাট মডেল থানা সংলগ্ন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বাসভবনের পাশে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করেন তিনি।
পুলিশ কনস্টেবল ভক্ত দাস মন্ডল বলেন, ‘বাগেরহাট মডেল থানায় যোগদানের কিছুদিন পর করোনাভাইরাস মহামারিতে রুপ নেয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন পতিত জমিতে সবজি চাষ করার। আমি আগের কর্মস্থলে সবজি চাষ করে সফলতা পাই। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম আজিজুল হক বলেন পতিত জমিতে সবজি চাষ করতে হবে। বিষয়টি আমি জানতে পেয়ে স্যারের অনুমতি নিয়ে চাষের উদ্যোগ নিই। এরপর তার পরামর্শ নিয়ে জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। স্থানীয়ভাবে গোবর সংগ্রহ করে বেগুন ও লাউসহ নানা ধরনের সবজির বীজ বপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের পর েেতর যতœ ও পরিচর্যা করি। কিছুদিনের মধ্যে গাছে ফুল ও ফল আসতে থাকে। বর্তমানে গাছে লাউ, বেগুন, শিমসহ বিভিন্ন সবজি রয়েছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পেরে আমি নিজেও খুশি। উৎপাদিত সবজি প্রতিনিয়ত আমাদের মডেল থানার সকল সদস্যকে এই সবজি প্রদান করা হয়।’ বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশের এসআই আছাদুজ্জামান বলেন, ‘এই েেত উৎপাদিত বিষমুক্ত লাউ, শিমসহ বিভিন্ন সবজি মেসে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব পুলিশ সদস্য বাসা নিয়ে থাকেন তাদের বাসাতেও সবজি পাঠানো হয়। আমরা খুবই আনন্দিত যে নিজেদের জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে খেতে পারছি। এর আগে কখনও এই জমিতে কোন সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারিনি।’ বাগেরহাট মডেল থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এই জমিটি পরিত্যক্ত ছিল, ময়লা আবর্জনা ভরা জমিতে মশা ও পোকা মাকড়ের ছিল বসবাস । আমি যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই জমি চাষাবাদের উদ্যোগ নিই। আমার এক কনস্টেবল চাষাবাদে দ ছিলেন। তার সাথে কথা বলে এই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছি। তাকে সবধরণের সহযোগিতা করা হয়। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান, সেই হিসেবে পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ করতে পারলে ভাল লাগে। বাগেরহাটের সবার প্রতি আমার অনুরোধ, যার যেটুকু জমি আছে সেই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন।’

ভাগ