আজ জিয়াউর রহমানের ৮৫ তম জন্মবার্ষিকী

মাসুদ রানা বাবু ॥ আজ ১৯ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের সর্বাধিনায়ক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার ও কারিগর এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়া জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মনসুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয়া সেই শিশুটি সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, সততা দেশপ্রেম, অসীম সাহসিকতা গুণাবলীতে গুণান্বিত হয়ে পরিণত হন জনতার জিয়ায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন বৈচিত্রময়, বর্ণাঢ্য এবং সাফল্যের সোনালী আলোয় উদ্ভাসিত। আজও কোটি কোটি জনতার হৃদয়ে আছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় একজন সৈনিক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন। সেনাবাহিনীর কঠোর, নিয়ম-শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মধ্যেও জীবনের সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন, একজন সফল মানুষ। তার ব্যক্তি, কর্ম ও রাজনৈতিক জীবনে কোন বৈপরিত্য ছিল না। নিদারুণ ক্রান্তিকালে হালধরে বাঙালি জাতিকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জুগিয়েছেন। একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী পৃথক জাতীয়তাবোধের জাগরণ সৃষ্টি করে তিনি সমাজে একটি পার্থক্য নির্ণয় করেন। যা তাকে একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন অনন্য সাধারণ নেতা হিসেবে পরিচিত দান করে। ১৯৭১ সালে জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য উন্মুক্ত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন দিকভ্রান্ত, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণায় হতাশা ও দিকভ্রান্ত জাতির মধ্যে আশা সঞ্চার হয়। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিকামী বীরজনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ১ ও ১১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেনা, ছাত্র, যুব সদস্যদের সংগঠিত করে পরবর্তীতে ১ম, ৩য় এবং ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই তিনটি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে তিনি বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত হন। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার নিয়োগ করা হয় এবং ১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে, ওই বছরের শেষের দিকে মেজর জেনারেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দেন দেশের নেতৃত্ব। সেই ক্রান্তিকালে জাতি যখন উৎকন্ঠিত, উদ্বিগ্ন, তখন সকলের মিলিত প্রয়াসে তিনি মুক্ত হন এবং দেশের হাল ধরেন। সেদিন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাননি, সময়ের প্রয়োজনে তাকে ক্ষমতায় বসান সিপাহী-জনতা এক রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে। জিয়াউর রহমান ছিলেন নির্লোভ, নির্মোহ, দেশপ্রেমিক নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের আপসহীন। তাকে বলা হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি। একদলীয় শাসনের নাগপাশ থেকে জাতিকে মুক্ত করে একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাঙালি জাতির সম্মানকে সুউচ্চে তুলে ধরেন। বাস্তবমুখী এসব কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করে নবজাগরণের মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি দেশের মানুষের মনিকোঠায় স্থান করে নেন। ১৯৮১ সালের ৩০ সে দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নির্মম শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয় এই মহান নেতাকে। সেনাবাহিনীর ভেতরকার কয়েকজন বিপথগামী সদস্যের তপ্ত বুলেটে সেদিন বাংলাদেশের ভাগ্য আকাশ থেকে চিরদিনের জন্যে খসে পড়ে আধুনিক বাংলার রূপকার, সপ্তদেশীয় শীর্ষ সংস্থা সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা জিয়াউর রহমান নামের এই নক্ষত্রটি। আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে তার জন্মদিন। যশোর জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কর্মসূচি।

ভাগ