লোকসমাজ ডেস্ক॥ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকলে আখমাড়াই স্থগিত থাকলেও ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়ায়’ উৎপাদিত আখ যথাযথভাবে চাষিরা সরকারের কাছে বিক্রি করছে। বর্তমানে আখ মাড়াই কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্রয়কৃত এসব আখ নিকটবর্তী চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা সংক্রান্ত আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান অপু, সাবেক চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা, সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিএসএফআইসির আওতাধীন চিনিকলগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেন। শিল্প সচিব কেএম আলী আজম সভাটি সঞ্চালনা করেন।
সভায় জানানো হয়, আখ মাড়াই স্থগিত থাকা চিনিকলগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আখ ক্রয় করা হচ্ছে। চিনিকলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন শিগগিরই পরিশোধ করা হবে। এসময় আরো জানানো হয়, চিনিকলগুলোতে আখ থেকে চিনি উৎপাদনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা চিনিকলগুলোর আখ মাড়াই কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন। এসময় আখচাষিদের কাছ থেকে আরো দ্রুত আখ ক্রয় ও চিনি উৎপাদনের রিকভারি রেট ৮ শতাংশে রাখার তাগিদ দেয়া হয়।
সভায় শিল্পমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চিনিকলগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য অডিট করার নির্দেশনা দেন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত দেশীয় আখের চিনি ব্যবহারের জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, লোকসান সত্ত্বেও কৃষকদের কথা চিন্তা করে চিনিকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ায় আখ চাষিরাও উপকৃত হচ্ছে। এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনসহ নতুন কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিএসএফআইসির সম্পদকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
শিল্প সচিব বলেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমে অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে চিনি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।





