চৌগাছায় ভেজাল সার-কীটনাশকে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা ফসল ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি

0

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)যশোরের চৌগাছায় ভেজাল কীটনাশকে হাট-বাজার সয়লাব। ভেজাল সার-কীটনাশকে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা। ফসল, জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আসল-নকল চিনতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষক ফসলে মাত্রাতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহার করেও আশানুরুপ ফল পাচ্ছেন না।
উপজেলার কৃষকরা বলছেন, অর্থব্যায় করে সার কীটনাশক ব্যবহার করেও উপকার পাচ্ছেন না তারা। ভেজাল সার-কীটনাশক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করায় উপকারের পরিবর্তে উল্টো তিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। এতে আর্থিকভাবে তির মুখে পড়ছেন উপজেলার কৃষকেরা। এদিকে রাসায়নিক ভেজাল সার-কীটনাশক ব্যবহার করায় ফসলের বন্ধু পোকা মারা যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফসল, জীববৈচিত্র ও পরিবেশের উপর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, ভেজাল ও নকলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ লোভী ভেজাল-নকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ রাসায়নিক সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাতে কোন কৃষক তাদের প্রতারনায় না ঠকে সে জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিমিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
উপজেলার পেটভরা গ্রামের কৃষক মামুন হোসেন অভিযোগ করে বলেন,আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে নামে-বেনামে হরেক রকমের কীটনাশক। দামও বেশি। প্যাকেটের গায়ের দামেই আমাদের কিনতে হয় এসব কীটনাশক। এসব কীটনাশক ফসলে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করেও ফলাফল মিলছে না। সারের বেলায়ও একই অবস্থা।
উপজেলার কয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক ইউনুচ আলী, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের লাভলুর রহমান, চাঁদপাড়া গ্রামের আবু জাফর, মহাতাফ উদ্দীন বলেন, এ বছর আমন মৌসুমে কোনো কিটনাশকে কাজ করেনি। যে কারনে আমন চাষে রোগ ও পোকা দমন করতে পারিনি। যার ফলে ফলনও অনেক কম হয়েছে।
এদিকে ২৭ ডিসেম্বর উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা রইচ উদ্দীন ভেজাল ও নকল বিরোধী অভিযান চালিয়ে চৌগাছা শহরের লিটন এন্টার প্রাইজে ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক ধ্বংস করেন।
ডিলাররা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে সার-কীটনাশকের মান পরীার কোনো ব্যবস্থা নেই। যার ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সারের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে যশোর ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হয়।
কৃষকরা বলছেন, যাদের দেখার দায়িত্ব তাদের মধ্যে দুইএকজন চেষ্টা করলেও বেশিরভাগই কোম্পানীগুলোর কাছে ম্যানেজ হয়ে যান।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, দেশে অনেক নিম্নমানের কোম্পানি রয়েছে। কৃষকরা এগুলো বাজারজাত করে থাকেন। কৃষকরা না বুঝে এগুলো কিনছে। অসাধু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।