লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাজ্যের এসেক্সে একটি লরির ভেতর ৩৯ অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় দুইজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তারা হলেন- লরির চালক ইয়ামন হ্যারিসন (২৪) এবং মানবপাচারকারী জিয়র্গে নিকা (৪৩)। হ্যারিসন লরিটিকে বেলজিয়ামের জিব্রাগ বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং ৩৯ ভিয়েতনামিকে পাচারের বন্দোবস্ত করেছিলেন নিকা। এর আগে আরও দুইজন এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিলেন।
২০১৯ সালের অক্টোবরে এসেক্সের একটি শিল্প এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লরির ভেতর ৩৯ জন অভিবাসীর মরদেহ পাওয়া যায়। মৃতদের সবাই ভিয়েতনামের নাগরিক। তাদের সবার বয়স ছিল ১৫ থেকে ৪৪-এর মধ্যে। জানা যায়, মৃত অভিবাসীরা প্রত্যেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য পাচারকারীদের ১০ হাজার পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অন্তত ১২ ঘণ্টা লরির ভেতর তীব্র গরমে আটকা ছিলেন তারা। এসময় ভেতরের দমবন্ধ পরিস্থিতি জানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান সবাই। বেশিরভাগ অভিবাসীই ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চল থেকে লরিটিতে উঠেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট, রেস্টুরেন্ট ও বারের কর্মী, ইটভাটার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার লোক ছিলেন। এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের ওল্ড বেইলির একটি আদালতে দুইমাসের শুনানি শেষে নরহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হ্যারিসন ও নিকা।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা হ্যারিসন দোষী সাব্যস্ত হন অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার দায়ে। একই অভিযোগ স্বীকার করেছেন নিকাও। যদিও তার দাবি, তিনি প্রাণঘাতী ওই সফরে সঙ্গী ছিলেন না। অন্য দুই অভিযুক্ত, লরিচালক ক্রিস্টোফার কেনেডি এবং ভ্যালেন্টিন ক্যালোটাও অবৈধ অভিবাসনে সহায়তায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এর আগে, লরিচালক মরিস রবিনসন এবং পণ্য পরিবহন কোম্পানি হলেজ-এর প্রধান রোনান হিউস অভিবাসীদের হত্যার দায় স্বীকার করেন। রবিনসনের শুনানিতে আদালতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসেক্সের পারফ্লিটে লরিটি পৌঁছানের পর এর ভেতরে মরদেহগুলো আবিষ্কার করেন। তবে সেসময় হিউসের কাছ থেকে তিনি একটি বার্তা পেয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘তাদের (অভিবাসী) দ্রুত বাতাস দাও, বের হতে দিও না’।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে লরিটি সংগ্রহ করেন রবিনসন এবং দরজা খুলে তার ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। এসময় তিনি হিউস ও নিকার কাছে ফোন করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার অন্তত ২৩ মিনিট পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের কাছে মরদেহ পাওয়ার ঘটনা জানান গাড়িটির চালক। লরির আরেক চালক হ্যারিসন দাবি করেছেন, তিনি জানতেন না ২২ অক্টোবর তার লরির ভেতর মানুষ পাচার করা হচ্ছিল। বিচারকদের বলেছেন, তিনি ভেবেছিলেন ভেতরে চোরাই পণ্য রয়েছে। ঘটনার দিন যখন লরিতে অভিবাসীদের ওঠানো হচ্ছিল, তখন বাসায় বসে নেটফ্লিক্স দেখছিলেন বলেও দাবি করেছেন এই গাড়িচালক। পাচারকারী নিকা আগে দু’বার মানবপাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও ২২ অক্টোবরের ট্র্যাজেডিতে কোনও হাত ছিল না বলে দাবি করেছেন।





