বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা : দুশ্চিন্তায় প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েকশ’ প্রকৃত পরীক্ষার্থী। তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জন্য নিজেদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। এ বিষয়ে বার কাউন্সিলকে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। শনিবার ছিল বার কাউন্সিল আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা। মোট নয়টি কেন্দ্রে বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে গভ. মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, বিসিএসআইআর হাই স্কুল ও সদরঘাট লক্ষ্মীবাজার মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ঝামেলা হয়। যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাদেরকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি, এমন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করা হয়।
জিডিতে বলা হয়, গত ১৯শে ডিসেম্বর গভ. মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ ও মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ কেন্দ্রে সকাল আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হঠাৎ পরীক্ষা বর্জনের স্লোগান দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি আন্দোলন শুরু করে। কেন্দ্রে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে পরীক্ষা বানচাল হয়ে যায়। কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা স্থগিত বলে ঘোষণা করেন। কিছু সংখ্যক আন্দোলনকারী পরীক্ষার খাতা জোরপূর্বক নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এতে আমরা ভীত হয়ে যাই। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সকলকে কেন্দ্র ত্যাগ করতে বললে আমরা বিসিএসআইআর হাইস্কুল ও লক্ষ্মীবাজারের অনেক শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, তাদেরকেও যেন আমাদের করা জিডিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আমি তাদেরকে বলেছি, ভিন্ন এলাকা হওয়ায় আপনাদেরকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের থানায় জিডি করতে হবে। আমরা মোহাম্মদপুর থানায় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জনের মতো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পেরে থানায় জিডি করেছি।
এ ব্যাপারে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এএম আমিন উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, শনিবার অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্রে কিছু শিক্ষার্থী গণ্ডগোল করেছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের কারণে যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের ব্যাপারে আপনাদের কি সিদ্ধান্ত? জবাবে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তদন্ত করে দেখবো নিরপরাধ কেউ যদি পরীক্ষা দিতে না পারে, সে ব্যাপারে কি করা যায়। মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বার কাউন্সিলের সচিব মো. রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কথা হয় বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বাদলের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, মোট নয়টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে একটু ঝামেলা হয়েছে। তবে বাকি কেন্দ্রের পরীক্ষা ঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। স্থগিত হওয়া কেন্দ্রে থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পরে নেয়ার বিষয় বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি লিখিত পরীক্ষায় নজিরবিহীন নৈরাজ্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (বার এসোসিয়েশন)। একই সঙ্গে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন না করতেও এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা। এমন নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষার সময় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেছি। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বার কাউন্সিল সদস্য এ জে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেছি। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আরো বলেন, সাক্ষাতের পর প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি। প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কাজল। একই সঙ্গে এমন ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

ভাগ