লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশের কিছু কিছু হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডের অক্সিজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট বিকল হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) দাবি করেছেন বিকল্পভাবে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক মানবজমিনকে বলেন, অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে। তবে জরুরি সেবাগুলো আমরা ঠিকমতো চালিয়ে নিচ্ছি। লিন্ডে বড় অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের প্ল্যান্ট বিকল হওয়ায় একটুতো সমস্যা হবেই। তিনি বলেন, কোভিড রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে সেবা দিচ্ছি।
আইসিইউ ও ওটিতেও সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু অক্সিজেন সংকটের কারণে রুটিন রোগীদের তারিখ পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। এসব রোগীর অক্সিজেন সরবরাহ সেবাটি এখন দিতে পারছি না। অন্যদিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, তাদের এখনও যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন মজুত আছে। হাসপাতালটিতে কেন্দ্রীয় ও সিলিন্ডারযুক্ত অক্সিজেনে রোগীদের সেবা দেয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডের অক্সিজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট বিকল হয় গত ১১ই ডিসেম্বর। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত লিন্ডের প্ল্যান্টটি হঠাৎ বিকল হয়। এটি ঠিক করতে ২০ থেকে ৩০ দিন লাগতে পারে। এতে দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে মুমূর্ষু কোভিড-১৯ রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ এ প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত অক্সিজেন সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়। ৮০ থেকে ৯০ ভাগ অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডে। জানা গেছে, লিন্ডের দৈনিক ১০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন কারখানাটির এএসইউ ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। এটি মেরামত করতে হলে ভারত থেকে লিন্ডের বিশেষ প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান আনতে হবে। মূলত কারখানাটির ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কমেপ্রসারের একটি মোটর নষ্ট হয়ে গেছে। এটি মেরামত করতে হলে ভারতে নেয়া লাগতে পারে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ দিন লেগে যেতে পারে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত শনিবার মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। যেখানে লিন্ডের প্রতিনিধিরা উপস্তিত ছিলেন। তারা দেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে ভারত থেকে লিন্ডে প্রয়োজনীয় তরল অক্সিজেন আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে। দেশে লিন্ডের পর্যাপ্ত অক্সিজেন ট্যাংকার না থাকায় ইন্ডিয়া থেকে ট্যাংকার ভর্তি অক্সিজেন আনার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালে দেশে অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে এর চেয়ে বিকল্প ব্যবস্থা আর নেই। এছাড়া এ ক্রান্তিকাল পার করার জন্য দেশে অবস্থিত সব ক্যাপটিভ কারখানার উদ্বৃত্ত অক্সিজেন লিন্ডে বাংলাদেশের মাধ্যমে অথবা সরাসরি সরকারি হাসপাতালে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভায় লিন্ডের এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে দেশের কোভিড আক্রান্ত আইসিইউতে ভর্তি মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষার্থে জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। দেশে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহে ভারত থেকে ১০টি ট্যাংকারে ৮০ টন তরল অক্সিজেন দেশে আনার প্রয়োজন পড়বে। আগামী ১ মাস এ ব্যবস্থায় অক্সিজেন আমদানি করা হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আশা করছি এর কোনো প্রভাব দেশে পড়বে না। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোম্পানিটি ইতিমধ্যে তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্র ঠিক করেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে তরল অক্সিজেন আসা শুরু হয়েছে। এছাড়াও স্পেক্টা অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও অক্সিজেন দিচ্ছে।





